মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

মুসলিম বিবাহ সম্পর্কৃত তথ্য

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রীকরণ) আইন, ১ঌ৭৪

মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রীকরণ সম্পর্কিত আইন একীকরণ ও সংশোধন করিবার জন্য আইন ]

যেহেতু মুসলিম বিবাহ ও তালাকরেজিষ্ট্রীকরণ সম্পর্কিত আইন একীকরণ ও সংশোধন করা সমীচীন; সেহেতু উহাএতদ্বারা নিম্নরূপ বিধিবদ্ধ করা হইলঃ

সংক্ষিপ্ত শিরোণাম ও প্রয়োগ :

(১) এই আইন মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রীকরণ) আইন, ১ঌ৭৪ বলিয়া অভিহিত করা যাইতে পারে।
(২) বাংলাদেশের সকল মুসলিম নাগরিকদের উপর যেখানেই তাহারা থাকুক না কেন, ইহা প্রযোজ্য হইবে।

সংজ্ঞা সমূহ :এই আইনে যদি বিষয়ে বা প্রসঙ্গে পরিপন্থী কোন কিছু না থাকে তাহা হইলেঃ-

(ক) মহা-নিবন্ধন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টরজেনারেল অব রেজিষ্ট্রশন) ও নিবন্ধক (রেজিষ্টার) বলিতে যথাক্রমে ১ঌ০৮ সনেররেজিষ্ট্রীকরণ আইনের (১৯০৮ সনের ১৬) অধীনে ঐরূপ পদনামযুক্ত ও নিযুক্তঅফিসারদেরকে বুঝায়।

(খ) নির্ধারিত বলিতে এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত বুঝায়।

বিবাহ রেজিষ্ট্রীকরণ :অন্য যে কোন আইন, প্রথা বা রীতিতেযে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও মুসলিম আইনঅনুযায়ী অনুষ্ঠিত প্রত্যেক বিবাহ এই আইনের বিধানাবলী অনুযায়ী রেজিষ্ট্রীকরতে হবে।

৪। নিকাহ নিবন্ধক : এই আইনের অধীনবিবাহসমূহ রেজিষ্ট্রীকরণের উদ্দেশ্যে সরকার যেরূপ বিধিনির্দিষ্ট করিতেপারেন সেরূপ এলাকার জন্য যেরূপ প্রয়োজনীয় গণ্য করিতে পারে সেরূপ সংখ্যকনিকাহ নিবন্ধক বলিয়া অভিহিত ব্যক্তিকে অনুজ্ঞাপত্র মঞ্জুর করিবেন। তবে শর্তথাকে যে অনধিক একজন নিকাহ নিবন্ধক যে কোন একটি এলাকার জন্য অনুজ্ঞাপ্রাপ্তহইবে।

নিকাহ নিবন্ধকগণ কর্তৃক অনানুষ্ঠিত বিবাহ সম্পর্কে তাহাদের নিকট প্রতিবেদন করিতে হইবে :

(১) নিকাহ নিবন্ধক কর্তৃক অনানুষ্ঠিতপ্রত্যেক বিবাহ এই আইনের অধীনে রেজিষ্ট্রীকরণের উদ্দেশ্যে তাহার নিকট এইরূপবিবাহ অনুষ্ঠিত করিয়াছেন এমন ব্যক্তি কর্তৃক প্রতিবেদন পেশ করিতে হইবে।
(২) যে কেহ (১) উপ-ধারার বিধান লংঘন করিলে সে তিন মাস পর্যন্ত বর্ধনযোগ্যমেয়াদের বিনাশ্রম কারাবাসে বা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানায় বাউভয়বিধে শাস্তিযোগ্য হইবেন।

তালাক রেজিষ্ট্রীকরণ :

(১) কোন নিকাহ নিবন্ধক এখতিয়ারের মধ্যেমুসলিম আইন অনুযায়ী কার্যকরীকৃত তালাক রেজিষ্ট্রীকরণের জন্য তাহার নিকটপেশকৃত আবেদন পত্রের ভিত্তিতে উহা রেজিষ্ট্রী করিতে পারেন।
(২) তালাক রেজিষ্ট্রিকরণের জন্য আবেদন তালাক কার্যকরী করিয়াছেন এমন ব্যক্তিবা ব্যক্তিগণ কর্তৃক মৌখিকভাবে পেশকৃত হইবে । তবে শর্ত থাকে যে, যদি মহিলাপর্দানশীল হন তাহা হইলে ঐরূপ আবেদন তাহার যথাযথভাবে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত উকিলকর্তৃক পেশ করা যাইতে পারে।

(৩) ১ঌ০৮ সনের রেজিষ্ট্রীকরণ আইনের (১৯০৮সনের ১৬) অধীনে রেজিষ্ট্রীকৃত যে দলিলমুলে স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতাঅর্পণ করিয়াছিল উক্ত দলিল অথবা ঐরূপ অর্পন করা হইয়াছে বলিয়া বিবাহরেজিষ্ট্রী খাতায় অন্তভুক্তির সত্যায়িত প্রতিলিপি দাখিলকরণের ভিত্তিতেব্যতীত নিকাহ নিবন্ধক তালাক-ই-তৌফিজ হিসাবে পরিচিত ধরনের কোন তালাকরেজিষ্ট্রী করিবেন না।

(৪) যেক্ষেত্রে নিকাহ নিবন্ধক কোন তালাকরেজিষ্ট্রী করিতে অস্বীকার করেন, সেক্ষেত্রে ঐরূপ রেজিষ্ট্রীকরণের জন্যআবেদন করিয়াছিল এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ উক্ত অস্বীকৃতির ত্রিশ দিনেরমধ্যে নিবন্ধকের নিকট আপীল পেশ করিতে পারেন এবং উক্ত আপীলের উপর নিবন্ধককর্তৃক প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত (বলিয়া গণ্য) হইবে।
৭। রেজিষ্ট্রীকরণের পদ্ধতি : নিকাহ নিবন্ধকনির্ধারিত পদ্ধতিতে কোন বিবাহ বা তালাক রেজিষ্ট্রী করিবেন।
৮। রেজিষ্ট্রী খাতা : প্রত্যেক নিকাহ নিবন্ধক নির্ধারিত ফরমে বিবাহ ওতালাকের পৃথক রেজিষ্ট্রী খাতা রাখিবেন এবং ঐরূপ প্রত্যেক রেজিষ্ট্রী খাতায়প্রত্যেক বত্সরের শুরুতে নতুন সারির সূচনা ক্রমে সকল ভুক্তি ক্রমিক সারিতেসংখ্যাযুক্ত (করিতে) হইবে।
৯। পক্ষগণকে ভুক্তির প্রতিলিপি দিতে হইবে : কোন বিবাহ বা তালাকেররেজিষ্ট্রীকরণ সম্পূর্ন হওয়ার পর নিকাহ নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে খাতায়ভুক্তির সত্যায়িত প্রতিলিপি অর্পণ করিবেন এবং ঐরূপ প্রতিলিপির জন্য কোন খরচআদায় করা হইবে না।

১০নিয়ন্ত্রন ও তত্ত্বাবধান :

(১) প্রত্যেক নিকাহ নিবন্ধক তাহার অফিসের কর্তব্যাবলী নিবন্ধকের অধীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে পালন করিবেন।
(২) মহা-নিবন্ধন পরিদর্শক সকল নিকাহ নিবন্ধকগণের অফিসের উপর সাধারণ অধীক্ষণ চালাইবেন।

১১অনুজ্ঞাপত্রের সংহরণ ও নিলম্বন :যদি সরকার বিশ্বাস করেন যে, নিকাহ নিবন্ধক তাহার কর্তব্যাবলী পালনে কোনঅসদাচনের জন্য দোষী অথবা তাহার কর্তব্যাবলী পালনে অনুপযুক্ত বা দৈহিকভাবেঅক্ষম, তাহা হইলে সরকার লিখিত আদেশবলে তাহার অনুজ্ঞাপত্র সংহরণ করিতেপারেন, অথবা আদেশের যেরূপ বিনির্দিষ্ট করা হইতে পারে সেরূপ অনধিক দুই বত্সরমেয়াদের জন্য তাহার অনুজ্ঞাপত্র নিলম্বিত করিতে পারেন।

তবে শর্ত থাকে যে, ঐরূপ কোন আদেশ প্রদান করা হইবে না যদিনিকাহ নিবন্ধককে কেন ঐরূপ আদেশ প্রদান করা হইবে না উহার কারণ প্রদর্শনেরযুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করা হয়।

১২রেজিষ্ট্রী খাতাসমূহের হেফাজত :প্রত্যেক নিকাহ নিবন্ধক ৮ ধারা অনুযায়ী তত্কর্তৃক রক্ষিত প্রত্যেকটিরেজিষ্ট্রী খাতা নিরাপদে রাখিবেন যতক্ষণ না উহা সম্পূর্ণ হয় এবং তিনিসংশ্লিষ্ট জিলা ত্যাগ করিলে বা অনুজ্ঞাপত্র ধারণ করা বন্ধ করিলে তখনই বাতত্পূর্বে নিরাপদ হেফাজতের জন্য নিবন্ধকের নিকট উহা হস্তান্তর করিবেন।

১৩। রেজিষ্ট্রী খাতাসমূহ পরিদর্শন : যেকোন ব্যক্তি নির্ধারিত ফি, যদি থাকে, প্রদানক্রমে নিকাহ নিবন্ধকের বানিবন্ধকের অফিসে সেখানে রক্ষিত যে কোন রেজিষ্ট্রী খাতা পরিদর্শন করিতেপারেন অথবা উহাতে কোন ভুক্তির প্রতিলিপি পাইতে পারেন।

১৪বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা :

(১) সরকার অফিসিয়াল গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আইনের উদ্দেশ্যাবলী কার্যকরী করিবার জন্য বিধি প্রণয়ন করিতে পারেন।
(২) বিশেষ করিয়া এবং পূর্ববর্তী ক্ষমতার সাধারণত্বের হানি না করিয়া উক্ত বিধিমালা-
(ক) যে ব্যক্তিদেরকে ৪ ধারার অধীনে অনুজ্ঞাপত্র মঞ্জুর করা যাইতে পারে তা যাদের জন্য আবশ্যক যোগ্যতা সম্পর্কে,
(খ) বিবাহ বা তালাক রেজিষ্ট্রীকরণের জন্য নিকাহ নিবন্ধককে প্রদেয় কি সম্পর্কে,
(গ) বিধি প্রণয়ন আবশ্যক এমন অন্য যে কোন বিষয় সম্পর্কে বিধান করিতে পারে।

১৫১ঌ৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের (১ঌ৬১ সনের ৮অর্ডিন্যান্স) সংশোধন :

১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের,

(ক) ৩ ধারার (১) উপ-ধারায় কমা ও শব্দাবলী এবং মুসলিম বিবাহ রেজিষ্ট্রীকরণ শুধুমাত্র ঐ সকল বিধানাবলী অনুযায়ী সংঘটিত হইবে বাদ যাইবে।
(খ) ৫ ধারা বাদ যাইবে।

(গ) ৬ ধারার (১) উপ-ধারায় এই আইনের অধীনশব্দসমূহের পরিবর্তে ১ঌ৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রীকরণ)আইনের (১ঌ৭৪ সনের ৫২ নম্বর আইন) অধীন শব্দসমূহ, কমা, অংক ও বন্ধকী বসিবে।

১৬নিরসন :

১৮৭৬ সনের মুসলিম তালাক রেজিষ্ট্রীকরণ আইনের (১৮৭৬ সনের ১ নং বেঙ্গল আইন) এতদ্বারা নিরসন করা হইল।

১৭বিদ্যমান নিকাহ নিবন্ধকগণ সম্পর্কিত বিধান :

এই আইনের প্রারম্ভের পূর্বে ১৯৬১ সনেরমুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের (১৯৬১ সনের ৮) অধীনে অনুজ্ঞাপ্রাপ্ত সকলনিকাহ নিবন্ধকগণ এই আইনের অধীনে নিকাহ নিবন্ধক হিসাবে অনুজ্ঞাপ্রাপ্তহইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>> 

মুসিলম বিবাহ আইন  (১৯৩৯ সালের ৮নং আইন) [ ১৯৩৯ সালের ১৭ই মার্চ তারিখে গভর্ণর-জেনারেলের সম্মতিপ্রাপ্ত ]

[ মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতা মহিলার বিবাহ বিচ্ছেদের উপরআণীত মামলা সম্পর্কিত মুসলিম আইনের বিভিন্ন ব্যবস্থাবলীর একত্রীকরণ ওপরিস্কার ব্যাখ্যার জন্য এবং বিবাহিতা মুসলমান মহিলার ইসলাম ধর্মপরিত্যাগের ফলে তাহার বিবাহ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সৃষ্ট সন্দেহ দূরীকরণার্থেপ্রণীত অ্যাক্ট ]।

যেহেতু, মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতামহিলার বিবাহ বিচ্ছেদের উপর আনীত মামলা সম্পর্কিত মুসলিম আইনের বিভিন্নব্যবস্থা একত্রীকরণ ও উহাদের পরিস্কার ব্যাখ্যার জন্য এবং বিবাহিতা মুসলমানমহিলার ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগের ফলে তাহার বিবাহ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সৃষ্টসন্দেহ দূরীকরণার্থে, এক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুভব করা যাইতেছে, সেইহেতুএতদ্বারা নিম্নলিখিত আইন পাশ করা হইতেছে :

। (ক) সংক্ষিপ্ত শিরোনামঃঅত্র আইনকে ১৯৩৯ সালের মুসলমান বিবাহ বিচ্ছেদ আইন নামে অভিহিত করা যাইতে পারে।

(খ) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে।

বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রির হেতুবাদঃনিম্নলিখিত যে কোন এক বা একাধিক হেতুবাদে মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতা কোনমহিলা তাহার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি লাভের অধিকারিণী হইবেন, যথাঃ

i) চার বছর যাবত্‍ স্বামী নিরুদ্দেশ হইলে;

ii) স্বামী দুই বত্সছর যাবত্‍ স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দানে অবহেলা প্রদর্শন করিলে অথবা ব্যর্থ হইলে;

ii-ক) স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ব্যবস্থা লঙ্খন করিরা অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করলে;

iii) স্বামী সাত বত্সার বা তদুর্ধ্ব সময়ের জন্য কারাদন্ডে দন্ডিত হইলে;

iv) স্বামী কোন যুক্তসঙ্গত কারণ ব্যতীত তিন বছর যাবত্‍ তাহার দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে;

v) বিবাহকালে স্বামীর পুরুষত্বহীনতা থাকিলে এবং উহা বর্তমানেও চলিতে থাকলে;

vi) দুই বছর  যাবত্‍ স্বামী পাগল হইয়া থাকিলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিতে কিংবা ভয়ানক ধরণের উপদংশ রোগে ভুগিতে থাকলে;

vii) আঠার বত্সরর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেতাহাকে তাহার পিতা অথবা অন্য অভিভাবক বিবাহ করাইয়া থাকিলে এবং উণিশ বত্সiরবয়স পূর্ণ হইবার পূর্বেই সে উক্ত বিবাহ অস্বীকার করিয়া থাকিলে; তবে, অবশ্য ঐসময়ের মধ্যে যদি দাম্পত্য মিলন অনুষ্ঠিত না হইয়া থাকে;

viii) স্বামী তাহার (স্ত্রীর) সহিত নিষ্ঠুর আচরণ করিলে, অর্থাত্

ক) অভ্যাসগতভাবে তাহাকে আঘাত করিলে বানিষ্ঠুর আচরণ দ্বারা, উক্ত আচরণ দৈহিক পীড়নের পর্যায়ে না পড়িলও, তাহার জীবনশোচনীয় করিয়া তুলিয়াছে এমন হইলে;.

খ) স্বামীর দূর্নাম রহিয়াছে বা কলঙ্কিত জীবন যাপন করে এমন স্ত্রীলোকদের সহিত মেলামেশা করিলে, অথবা

গ) তাহাকে দূর্ণীত জীবন যাপনে বাধ্য করিবার চেষ্টা করিলে, অথবা

ঘ) তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করিলে অথবা উহার উপর তাহার বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করিলে, অথবা

ঙ) তাহার ধর্মীয় কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি করিলে, অথবা

চ) একাধিক স্ত্রী থাকিলে, সে কোরানের নির্দেশ অনুযায়ী ন্যায়পরায়নতার সহিত তাহার সঙ্গে আচরণ না করিলে;

ix) মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য বৈধ হেতু হিসাবে স্বীকৃত অন্য যে কোন কারণেঃ

তবে অবশ্য-

ক) কারাদন্ডাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ৩ নং হেতু বাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না,

খ) ১ নং হেতুবাদে প্রদত্ত ডিক্রিটি উহারপ্রদানের তারিখ হইতে ৬ মাস পর্যন্ত কার্যকরী হইবে না এবং স্বামী উক্ত সময়েরমধ্যে স্বয়ং অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কো এজেন্টের মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া এইমর্মে যদি আদালতকে খুশী করিতে পারে যে, দাম্পত্য কর্তব্য পালনে প্রস্তুতরহিয়াছে, তাহা হইলে আদালত ডিক্রিটি রদ করিবেন; এবং

গ) ৫ নং হেতুবাদে ডিক্রি প্রদানের পূর্বে, স্বামীর আবেদনক্রমে আদালতের আদেশের এক বত্স রের মধ্যে যে পুরুষত্বহীনতাহইতে মুক্তি লাভ করিয়াছে বা তাহার পুরুষত্বহীনতার অবসান ঘটিয়াছে এই মর্মেআদালতকে সন্তুষ্ট করিবার জন্য আদালত তাহাকে আদেশ দান করিতে পারেন এবং যদিসে উক্ত সময়ের মধ্যে আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারে, তাহা হইলে উক্তহেতুবাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না।

৩। স্বামীর ঠিকানা জানা না থাকিলে তাহারউত্তরাধিকারীগণের উপর নোটিশ জারী করিতে হইবে যে মামলায় ২ ধারায় (১) উপ-ধারাপ্রযোজ্য, সেখানে-

ক) আর্জিতে ঐ সমস্ত লোকের নাম-ঠিকানালিখিতে হইবে যাহারা আর্জি পেশ করিবার সময় স্বামী মারা গেলে মুসলিম আইনেস্বামীর উত্তরাধিকারী হইতেন;

খ) ঐ ধরণের ব্যক্তিগণের উপর নোটিশ জারী করিতে হইবে, এবং

গ) উক্ত মামলায় ঐ সকল ব্যক্তির বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।

তবে অবশ্য ম্বামীর চাচা ও ভাই থাকিলে উহারা উত্তরাধিকারী না হইলেও উহাদিগকে অবশ্যই পক্ষভূক্ত করিতে হইবে।

ধর্মান্তরের ফলঃ

কোন বিবাহিতা মুসলমান মহিলা ইসলাম ধর্মত্যাগ করিলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করিলে উহাতেইতাহা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিবে না। তবে, অবশ্য এই জাতীয় ধর্ম ত্যাগ বা অন্য ধর্মগ্রহণের পর মহিলাটি ২ ধারায় বর্ণিত অন্য কোন হেতুবাদে তাহার বিবাহবিচ্ছিদের জন্য ডিক্রি গ্রহণের অধিকারিণী হইবেনঃ আরও এই যে, অত্র ধারারব্যবস্থাবলী ঐ মহিলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যে কোন ধর্ম হইতে মুসলিমধর্মে ধর্মান্তরিত হইয়াছিল এবং বর্তমানে স্বীয় পুরাতন ধর্মে পুনরায় দীক্ষাগ্রহণ করিল।

দেহমোহরের অধিকার ক্ষুন্ন হইবে নাঃ

অত্র আইনে সন্নিবেশিত কোন কিছুই কোনবিবাহিতা মহিলার বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে মুসলিম আইন অনুযায়ী তাহার প্রাপ্তদেনমোহর অথবা উহার কোন অংশের উপর তাহার কোন অধিকারকেই ক্ষুন্ন করিবে না।

৬। ১৯৩৭ সালের মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইনের ৫ ধারাটিকে এতদ্বারা বাতিল ঘোষণা করা হইল [ ১৯৪২সালের ২৫ নং এ্যাক্ট দ্বারা বাতিল ঘোষিত হয় ]

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>> 

মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৬১ [১৯৩৯ সালের ৮নং আইন]
——————————————————————–

ধারা -১ (সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগযোগ্যতার সীমা )

(১) অত্র আইন মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ নামে পরিচিত হইবে ।

(২) ইহা সমস্ত বাংলাদেশে কার্যকর হইবে ।

(৩) বিবাহবিচ্ছেদ ও ডিক্রি লাভেরকারণসমূহঃ মুসলিম আইন অনুসারে কোনো বিবাহিতা স্ত্রীলোক নিম্নলিখিত এক বাএকাধিক কারণে তাহার বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি পাওয়ার অধিকারণী হইবে ।যথাঃ

(১) চার বত্সবরকাল পর্যন্ত স্বামী নিখোঁজ;

(২) দুই বত্সরকাল পর্যন্ত স্বামী তাহাকে ভরণপোষণ প্রদানে অবহেলা করিয়াছে বা ব্যর্থ হইয়াছে ।

ধারা-২ (বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রির কারণসমূহ )

(১) ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের বিধান অমান্য করিয়া স্বামী অপর কোনো স্ত্রী গ্রহণ করিয়াছে;

(২) সাত বত্সর বা ততোধিক সময়ের জন্য স্বামী কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইয়াছে;

(৩) যুক্তসঙ্গত কারণ ব্যতীতস্বামী তিন বত্সরকাল যাবত তাহার বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইয়াছে;

(৪) বিবাহের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন ছিল এবং তাহার ঐরূপ অবস্থা অব্যাহত আছে;

(৫) দুই বত্সর পর্যন্ত স্বামী অপ্রকৃতিস্থ রহিয়াছে বা কুষ্ঠরোগ অথবা মারাত্মক যৌন রোগে ভুগিতে থাকে;

(৬) বয়স ১৬ বত্সর পূর্ণ হইবার আগে তাহাকেতাহার বাবা অথবা অন্য কোনো অভিভাবক বিবাহ দিয়াছে ও বয়স ১৮ বত্সর পূর্ণহইবার আগে সে (স্ত্রীলোক) উক্ত বিবাহ নাকচ করিয়াছে । শর্ত থাকে যে, বিবাহেযৌনমিলন ঘটে নাই ।

(৭) স্বামী-স্ত্রীর সহিত নিষ্ঠুর আচরণ করে; যেমন-

(ক) তাহাকে স্বভাবতঃই আক্রমণ করে বানিষ্ঠুর আচরণের মাধ্যমে তাহার জীবন দুর্বিসহ করিয়া তোলে যদি ঐরূপ আচরণশারীরিক নির্যাতন নাও হয়; বা

(খ) খারাপ চরিত্রের নারীগণের সঙ্গে থাকে অথবা ঘৃণ্য জীবনযাপন করে; বা

(গ) তাহাকে নৈতিকতাহীন জীবনযাপনে বাধ্য করিতে চেষ্টার করে; বা

(ঘ) তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করে বা উক্ত সম্পত্তিতে তাহার আইনসঙ্গত অধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে; বা

(ঙ) তাহাকে তাহার ধর্ম বিশ্বাস অথবা ধর্ম চর্চায় বাধা প্রদান করে; বা

(চ) যদি তাহার একাধিক স্ত্রী থাকে তবে কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী সে তাহার সহিত ন্যায়সঙ্গতভাবে ব্যবহার না করে;

(৮) মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের নিমিত্ত বৈধ বলিয়া স্বীকৃত অপর কোন কারণে শর্ত থাকে যে-

(ক) কারাদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ৩নং উপধারায় বর্ণিত কারণে ডিক্রি দেওয়া হইবে না;

(খ) ১নং উপধারায় বর্ণিত কারণে উহার তারিখহইতে ছয় মাস কাল পর্যন্ত কার্যকর হইবে না; এবং স্বামী যদি উক্ত সময় মধ্যেব্যক্তিগতভাবে বা কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হইয়াআদালতকে সন্তোষজনক উত্তর দেয় যে সে দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছেতবে আদালত উক্ত ডিক্রি নাকচ করিবেন;

(গ) ৫নং উপধারায় বর্ণিত কারণে ডিক্রিদেওয়ার আগে আদালত স্বামীর আবেদনক্রমে তাহাকে আদেশ প্রদান করিতে পারেন যে, অত্র আদেশের তারিখ হইতে ১ বত্সরকালের মধ্যে সে আদালতের নিকট সন্তোষজনকভাবেপ্রমাণ করিতে হইবে যে, সে পুরুষত্বহীনতা হইতে আরোগ্য লাভ করিয়াছে; এবং যদিস্বামী উক্ত সময় মধ্যে ঐরূপে আদালতকে সন্তুষ্ট করিতে পারে তবে উক্ত কারণেকোনো ডিক্রি দেওয়া হইবে না ।

ধারা-৩ (নিরুদ্দেশ স্বামীর উত্তরাধিকারদের উপর নোটিশ প্রদান )

২নং ধারার ১নং উপধারার প্রযোজ্য মামলায়-

(ক) আরজি দাখিল করিবার তারিখে স্বামীর যদিমৃত্যু ঘটিত তবে মুসলিম আইন অনুসারে যাহারা তাহার উত্তরাধিকারী হইতেতাহাদের নাম, ঠিকানা আরজিতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে;

(খ) ঐরূপ ব্যক্তিগণের উপর মামলার নোটিশ জারি করিতে হইবে; এবং

(গ) উক্ত মামলার শুনানিতে তাহাদের বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে;

শর্ত থাকে যে, যদি স্বামীর কোনো চাচা এবং ভাই থাকে তবে সে অথবা তাহারা উত্তরাধিকারী না হইলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হইবে ।

ধারা -৪ ( অন্য ধর্ম গ্রহণের পরিণতি )

বিবাহিতা মুসলিম মহিলা ইসলাম ধর্মপরিত্যাগ অথবা উক্ত ধর্ম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করিলে সেইজন্য তাহারবিবাহবিচ্ছেদ ঘটে না ।শর্ত থাকে যে, ঐরূপ ধর্ম ত্যাগ অথবা অন্য ধর্ম গ্রহণকরিবার পর উক্ত নারী ২ ধারায় উল্লেখিত যেকোন কারণে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রিপাওয়ার অধিকারিণী হইবে ।আরও শর্ত থাকে যে, কোনো বিধর্মী মহিলা ইসলাম ধর্মগ্রহণ করিবার পর পুনরায় তাহার পূর্বে ধর্মে ফিরিয়া আসিলে অত্র ধারারবিধানসমূহ তাহার প্রতি প্রযোজ্য হইবে না ।

ধারা-৫ ( দেনমোহরের অধিকার খর্ব করিবে না )

অত্র আইনে বর্ণিত কোনো কিছু মুসলিম আইনঅনুসারে বিবাহিতা কোনো মহিলার প্রাপ্য দেনমোহর অথবা উহার কোনো অংশেরঅধিকার তাহার বিবাহবিচ্ছেদ কতৃর্ক প্রভাবিত হইবে না ।

ধারা-৬ (১৯৩৭ সালের ১৬নং আইনের ৫ ধারা বাতিল )

১৯৩৭ সালের মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরীয়ত) প্রয়োগ আইনের ৫ ধারা বাতিল ।

তথ্য সূত্র : জনগূরুত্বপূর্ণআইন, লেখক- ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া ।

 

পারিবারিক আদালত বিধিমালা, ১৯৮৫
——————————————-

১৯৮৫ সালের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশের ২৬ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নিম্নলিখিত বিধিমালা প্রণয়ন করিলেন; যথাঃ

বিধি -১ (সংক্ষিপ্ত শিরোনাম )

এই বিধিমালা ‘পারিবারিক আদালত বিধিমালা, ১৯৮৫’ নামে অভিহিত হইবে ।

বিধি-২ ( সংজ্ঞাসমূহ )

অত্র বিধিমালা বিষয়ে অথবা প্রসঙ্গে বিপরীত কিছু না থাকিলে-

(ক) ‘ফরম’ বলিতে অত্র বিধিমালার সঙ্গে সংযুক্ত ফরমকে বুঝাইবে ।

(খ) ‘অধ্যাদেশ’ বলিতে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ (১৯৮৫ সনের ১৮নং আইন)-কে বুঝাইবে ।

বিধি -৩ (মামলার রেজিস্ট্রি বই)

কোনো আপিল জেলা জজের আদালতে দায়ের করা হইলে উহার বিবরণ ‘খ’ ফরমে রক্ষিতব্য রেজিস্ট্রি বইতে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে ।

বিধি-৪ (আপীলের রেজিস্ট্র বই )

কোনো আরজি পারিবারিক আদালতে দায়ের করা হইলে উহার বিবরণ খ ফরমে রক্ষতব্য রেজিস্ট্রি বইতে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে ।

বিধি -৫ ( ডিক্রির ফরম )

অত্র অধ্যাদেশের প্রত্যেক মামলার রায়প্রদানান্ত ‘গ’ ফরমে ডিক্রি লিখিতে হইবে ও ভারপ্রাপ্ত জজ উহাতে দস্তখত দিতেহইবে ও ডিক্রি পারিবারিক আদালতের সীলমোহর যুক্ত হইবে ।

বিধি-৬ (জরিমানার রসিদের ফরম)

যেক্ষেত্রে অত্র অধ্যাদেশের ১৮ অথবা ১৯ধারা মোতাবেক কোনো জরিমানা প্রদান করা হয় বা অত্র অধ্যাদেশের আওতায়পারিবারিক আদালত কোনো অর্থ অথবা সম্পত্তি জমা নেয় অথবা আদায় করেসেক্ষেত্রে ‘ঘ’ ফরমে রসিদ প্রদান করিতে হইবে এবং উহা ক্রমিক নম্বর যুক্তহইতে হইবে ও উহার চেকমুড়ি পারিবারিক আদালতে রক্ষিত হইবে ।

বিধি -৭ (জরিমানা ইত্যাদির রেজিস্ট্রি বই )

পারিবারিক আদালত কতৃর্ক জমা নেওয়া অথবাআদায়কৃত এবং ব্যয়কৃত সমস্ত জরিমানা, অর্থ অথবা সম্পত্তি ‘ঙ’ ফরমে কোনোরেজিস্ট্রি হইতে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে ।

বিধি -৮ (পক্ষের উপর নোটিশ )

যদি পারিবারিক আদালত কোনো পক্ষের প্রাপ্যকোনো অর্থ গ্রহণ করেন তবে পারিবারিক উহা পাওয়ার পক্ষের প্রতি নোটিশ জারিকরাইবেন ও উক্ত পক্ষকে উহা গ্রহণের নিমিত্ত তাহার দরখাস্তের ৭ দিনের ভিতরউহা প্রদান করিবেন ।

বিধি -৯ (পারিবারিক আদালতের রেকর্ডসমূহ এবং রেজিস্ট্রি বই )

দেওয়ানী আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুপ্রীম কোর্টের বিধিসমূহ অনুযায়ী যথাবিধানকৃত সময়ের নিমিত্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে ।

বিধি -১০ (রেকর্ডসমূহ ও উহা পরিদর্শন)

(১) বিরোধের কোনো পক্ষের দরখাস্তেরভিত্তিতে পারিবারিক আদালত চল্লিশ পয়সা ফী প্রদানের পর বিরোধ বিষয়কপারিবারিক আদালতের রেকর্ডসমূহ পরিদর্শনের অনুমতি দিবেন।

(২) মামলার কোনো পক্ষের দরখাস্তেরভিত্তিতে প্রতি একশত চল্লিশ অথবা উহার অংশবিশেষ শব্দের নিমিত্ত চল্লিশ পয়সাহারে ফী প্রদানের পর পারিবারিক আদালত উহার রায়, ডিক্রি অথবা আদেশের অথবাঅপরাপর কার্যক্রমের অথবা অত্র বিধিসমূহ অনুযায়ী রক্ষিত কোনো রেজিস্ট্রিবইতে অন্তর্ভুক্তির অথবা ইহাদের কোনো অংশ বিশেষের প্রত্যায়িত প্রতিলিপিসরবরাহ করিতে হইবে ।

বিধি-১১ ( পারিবারিক আদালতের সীলমোহর )

(১) প্রতিটি পারিবারিক আদালতের অফিসে উক্তআদালতের সীলমোহর রাখিতে হইবে এবং উহা আকারে বৃত্তাকারে হইবে ও পারিবারিকআদালত এবং স্থানের নাম থাকিবে ।

(২) অত্র অধ্যাদেশ অথবা বিধিমালার অধীনেদেওয়া সমস্ত সমন, আদেশ, ডিক্রি প্রতিলিপি এবং অপরাপর কাগজপত্রে পারিবারিকআদালতের সীলমোহর ব্যবহার করিতে হইবে ।

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>> 

 

মুসলিম পারিবারিক আইন বিধিমালা, ১৯৬১
————————————————-

১৯৬১সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ১১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নিম্নলিখিত বিধিমালা প্রণয়ন করিলেন; যথা

বিধি -১ :অত্র বিধিমালা ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন বিধিমালা নামে অভিহিত হইবে ।

বিধি -২ : অত্র বিধিমালার বিষয়ে অথবা প্রসঙ্গে বিপরীত কোনো কিছু বর্তমানে থাকিলে-

(ক) ”চেয়ারম্যান” বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে সেইরূপ একই অর্থ বুঝাইবে;

(খ) ”ফরম” বলিতে অত্র বিধিমালার সহিত সংযুক্ত ফরমকে বুঝাইবে;

(গ) ”স্থানীয় এলাকা” বলিতে কোনো পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন এলাকাকে বুঝাইবে;

(ঘ) ”মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন” বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে তেমন একই অর্থ বুঝাইবে;

(ঙ) ”অধ্যাদেশ” বলিতে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (১৯৬১ সালের ৮নং আইন)-কে বুঝাইবে;

(চ) ”পৌরসভা” বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে তেমন একই অর্থ বুঝাইবে;

(ছ) ”ধারা” বলিতে অধ্যাদেশে কোন ধারাকে বুঝাইবে; এবং

(জ) ”ইউনিয়ন পরিষদ” বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে সেইরূপ একই অর্থ বুঝাইবে ।

বিধি-৩ : ধারার গ, ঘ অথবা চঅনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যে কথিত বিষয়ে যে পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়নপরিষদের আওতা বা এখতিয়ার থাকিবে তাহা নিম্নবর্ণিত রূপ হইবে :

(ক) ৬ ধারার ২ উপধারার দরখাস্তের বেলায়ইহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে বর্তমানস্ত্রী অথবা যেক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রী বর্তমান, সেইক্ষেত্রে যে স্ত্রীরসহিত স্বামী সর্বশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছিল সেই স্ত্রী স্বামীরদরখাস্ত দাখিলের সময় বসবাস করিতেছে ।

(খ) ৭ ধারার ১ উপধারার নোটিশের বেলায় ইহাসেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে যেই স্ত্রীসম্বন্ধে তালাক উচ্চারণ করা হইয়াছে সেই স্ত্রী তালাক উচ্চারণ করার সময়বসবাস করিতেছিল এবং

(গ) ৯ ধারার দরখাস্তের বেলায় ইহা সেই পৌরকর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে স্ত্রী তাহার দরখাস্তদাখিলের সময় বসবাস করিতেছে ও যদি একাধিক স্ত্রী উক্ত ধারায় দরখাস্ত দেয় তবেউহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে সর্বপ্রথমদরখাস্তকারিণী স্ত্রী তাহার দরখাস্ত দাখিলের সময় বসবাস করিতেছে ।

বিধি-৪ : (১) যদি কোনো পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরূপে কোনো অমুসলিম, নির্বাচিত হয়তবে সেইক্ষেত্রে উক্ত কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ যত শীঘ্র সম্ভবহইতে পারে তত শীঘ্র অধ্যাদেশের কার্যকারিতার্থে ইহার কোনো মুসলিম সদস্যকেচেয়ারম্যানরূপে নির্বাচিত করিবেন ।

(২) সালিশী পরিষদের কার্যক্রমে কোনো পক্ষচেয়ারম্যানকে অপর পক্ষের অনুকূলে স্বার্থান্বিত বলিয়া মনে করিলে অন্যকাহাকেও চেয়ারম্যান নিযুক্তির নিমিত্ত লিখিতভাবে রেকর্ডতব্য হেতুসমূহসহযেমন নির্ধারিত হইতে পারে তেমন ব্যক্তির নিকট দরখাস্ত করিতে পারেন যিনিযথাযথ মনে করিলে উক্ত কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের অপর কোনোসদস্যকে অধ্যাদেশের কার্যকারিতার্থে হিসাবে নিযুক্ত করিতে পারে এবং এইরূপনির্ধারিত ব্যক্তি উক্ত দরখাস্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সালিশী পরিষদেরকার্যক্রম স্থগিত রাখিবেন ।

বিধি-৫ : (১) সালিশী পরিষদে আনীত কার্যব্যবস্থা চেয়ারম্যান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিচালনা করিবেন

(২) কোনো ব্যক্তির প্রতিনিধি মনোনয়নেব্যর্থতার দরুন অথবা অন্য কোনোভাবে সালিশী পরিষদে কোনো পদ খালি হওয়ারকারণে এইরূপ কার্যক্রম ত্রুটিযুক্ত হইবে না ।

(৩) যদি মনোনয়ন প্রদানে ব্যর্থতার কারণ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে পদশূন্য হয় তবে সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান নুতন মনোনয়ন দাবি করিবেন ।

(৪) সালিশী পরিষদের কার্যক্রমের কোনো পক্ষই উক্ত পরিষদের সদস্য হইতে পারিবে না ।

(৫) সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সালিশী পরিষদের সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং যদি কোনো সিদ্ধান্তই সালিশী পরিষদের সিদ্ধান্ত হিসাবে গণ্য হইবে ।

বিধি-৬ : (১) ৬ ধারার ২ উপধারায় অথবা ৯ধারার ১ উপধারায় কোনো দরখাস্ত বা ৭ ধারার ১ উপধারায় কোনো নোটিশ প্রাপ্তিরসাত দিনের ভিতর চেয়ারম্যান লিখিত আদেশ মাধ্যমে পক্ষগণের প্রত্যেককে তাহারপ্রতিনিধি মনোনয়ন করিতে নির্দেশ দিবেন ও এইরূপ প্রত্যেক পক্ষ উক্ত আদেশপ্রাপ্তির সাত দিনের ভিতর লিখিতভাবে তাহার একজন প্রতিনিধি মনোনয়ন করিবে ওচেয়ারম্যানের নিকট মনোনয়ন দাখিল করিবে বা রেজিস্ট্রি ডাকযোগে চেয়ারম্যানকেইহা পাঠাইবে ।

(২) যদি কোনো পক্ষের মনোনীত প্রতিনিধিমৃত্যুমুখে পতিত হয় বা অসুস্থতা বা অন্যবিধ কারণে সালিশী পরিষদের মিটিং-এঅনুপস্থিত থাকেন বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনাস্থাভাজন হন তবে এইরূপক্ষেত্রেপক্ষটি চেয়ারম্যানের লিখিত পূর্বানুমতিক্রমে মনোনয়নটি প্রত্যাহার করিতেপারেও চেয়ারম্যান যে সময় মঞ্জুর করিতে পারেন সেই সময়ের ভিতর নূতন মনোনয়নপ্রদান করিতে হইবে ।

(৩) যদি ২ উপধারা অনুযায়ী নূতন মনোনয়নপ্রদান করা হয় তবে চেয়ারম্যান লিখিতভাবে রেকর্ডকৃতব্য কারণে ভিন্নরূপনির্দেশ প্রদান না করিলে সালিশী পরিষদ উহার কার্যক্রম নূতনভাবে শুরু করারপ্রয়োজন পড়িবে না ।

বিধি৭-১৩ ( বাতিল ।)

বিধি -১৪ : বহুবিবাহঃ একটি বর্তমান বিবাহবলবত থাকাকালীন অন্য একটি প্রস্তাবিত বিবাহ ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয় কিনাতাহা বিবেচনার সময় সালিশী পরিষদ ইহার সাধারণ ক্ষমতার ক্ষতি না করিয়াঅন্যান্যের সহিত নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলির দিকে নজর রাখিবেন-

কোনো বর্তমান স্ত্রীর বেলায় বন্ধাত্বদৈহিক দৌর্বল্য, দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে দৈহিক অনুপযুক্ততা, দাম্পত্যজীবন পুনরুদ্ধারের নিমিত্ত একটি ডিক্রি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়াইয়া চলা অথবাবর্তমান স্ত্রীর অপ্রকৃতিস্থতা ।

বিধি -১৫ : একটি বর্তমান বিবাহ বলবত্‍থাকাকালীন অন্য একটি বিবাহ চুক্তি করার অনুমতি প্রদানের নিমিত্ত ৬ ধারার ১উপধারায় কোনো দরখাস্ত লিখিতভাবে করিতে হইবে, ইহাতে বর্তমান স্ত্রী অথবাস্ত্রীগণের সম্মতি নেওয়া হইয়াছে কিনা উহা বর্ণনা করিতে হইবে, যে কারণসমূহেরভিত্তিতে নূতন বিবাহটি ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয় বলা হইয়াছে সেইগুলিসংক্ষিপ্তভাবে দরখাস্তে বর্ণনা করিতে হইবে । দরখাস্তকারীর দস্তখত উহাতেথাকিতে হইবে এবং পঁচিশ টাকার ফী তত্সঙ্গে যুক্ত করিতে হইবে ।

বিধি -১৬ :রিভিশনঃ (১) ৬ ধারার ৪ উপধারায়প্রদত্ত সালিশী পরিষদের সিদ্ধান্ত বা ৯ ধারার ২ উপধারায় প্রদত্ত কোনোসার্টিফিকেট রিভিশনের নিমিত্ত কোনো দরখাস্ত সিদ্ধান্তটি অথবা সার্টিফিকেট, সে যাহাই হউক প্রদানের ত্রিশ দিনের ভিতর দাখিল করিতে হইবে ও তত্সহ দুইটাকার ফী সংযুক্ত করিতে হইবে ।

(২) দরখাস্তখানা লিখিত হইতে হইবে এবং যেসকল কারণসমূহের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি অথবা সার্টিফিকেটটির রিভিশন চাওয়া হয়উহা বর্ণনা করিতে হইবে ও ইহাতে দরখাস্তকারীর দস্তখত থাকিতে হইবে ।

বিধি -১৭ : গোপন কার্যক্রমঃ চেয়ারম্যান অন্যরূপ নির্দেশ প্রদান না করিলে সালিশী পরিষদের সকল কার্যক্রম গোপনে অনুষ্ঠিত হইবে ।

বিধি -(১৮ – ২০ ) বাতিল ।

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>> 

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (১৯৬১ সনের ৮নং অধ্যাদেশ)

বিবাহ এবং পারিবারিক আইন কমিশনের কতিপয় সুপারিশ কার্যকর করার জন্য প্রণীত অধ্যাদেশ৷

যেহেতু, বিবাহ এবং পারিবারিক আইন কমিশনেরসুপারিশ কার্যকর করা দরকার ও সমীচীন৷ সেহেতু, ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবরেরঘোষণা দ্বারা রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত ক্ষমতা বলে, নিম্নলিখিত অধ্যাদেশটি প্রণয়নও জারী করলেন:

১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, সীমা, প্রয়োগ ও বলবতের সময় (Short title, extent, application and commencement):

এই অধ্যাদেশকে ১৯৬১ সনের ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ’ নামে অভিহিত করা হবে।

ইহা সমগ্র বাংলাদেশে এবং যে যেখানেই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের সকল মুসলিম নাগরিকের উপর প্রযোজ্য হবে।

সরকার, সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তি মারফত যে তারিখ নির্ধারণ করবেন, সেই তারিখ হতে উহা কার্যকর হবে।

(উল্লেখ্য যে, ১৯৬১ সনের ১৫ই জুলাই তারিখ হতে এই অধ্যাদেশটি বলবত হয়েছে)

২৷ সংজ্ঞাসমূহ (Definitions): এই অধ্যাদেশে, বিষয়বস্তু বা প্রসঙ্গ হতে বিপরীত কিছু প্রতীয়মান না হলে-

(ক) ‘সালিসী পরিষদ’ (Arbitration Council) বলতে চেয়ারম্যান এবং এই অধ্যাদেশে উল্লিখিত কোন বিষয়ের সংশ্লিষ্ট পক্ষগণেরপ্রত্যেকের একজন প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত পরিষদকে বুঝাবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোন পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে ব্যর্থ হলে অনুরূপপ্রতিনিধি ছাড়া গঠিত পরিষদই সালিসী পরিষদ হবে।

(খ) চেয়ারম্যান (Chairman) বলতে বুঝাবে-

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান;
পৌরসভার চেয়ারম্যান;
মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক;

সেনানিবাস এলাকায় অত্র অধ্যাদেশ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি;

কোন ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বামিউনিসিপ্যাল করপোরেশন বাতিল করা হলে সেক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক অত্রঅধ্যাদেশের অধীনে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনেরচেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত ব্যক্তি।

তবে শর্ত থাকে যে,যেখানে ইউনিয়ন পরিষদঅথবা পৌরসভার চেয়ারম্যান একজন অমুসলমান অথবা তিনি নিজেই সালিসী পরিষদেরনিকট কোন দরখাস্ত করতে চাহেন এমন হলে,অথবা অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণেচেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা উহারএকজন মুসলমান সদস্যকে এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যাবলী পূরণকল্পে একজনকেচেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।

(গ)মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন’ (Municipl Corporation) বলতে ১৯৮২ সালের চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮২ সনের ৩৫নং অধ্যাদেশ) অথবা ১৯৮৩ সালের ঢাকা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮৩সনের ৪০নং অধ্যাদেশ), অথবা ১৯৮৪ সালের খুলনা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনঅধ্যাদেশ (১৯৮৪ সনের ৭২ নং অধ্যাদেশ) অনুযায়ী গঠিত মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনবুঝাবে এবং নির্ধারিত এখতিয়ার সম্পন্ন হবে।

(ঘ)পৌরসভা’ (Paurashava) বলতে ১৯৭৭ সালের পৌরসভা অধ্যাদেশ (১৯৭৭ সনের ২৬ নং অধ্যাদেশ) অনুযায়ী গঠিত পৌরসভা বুঝাইবে এবং নির্ধারিত এখতিয়ার বুঝায়।

(ঙ)নির্ধারিত’ (Prescribed) বলতে ১১ ধারার অধীনে প্রণীত বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত বুঝায়।

(চ)ইউনিয়ন পরিষদ’ (Union Parishad) বলতে ১৯৮৩ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশের (১৯৮৩ সনের ৫১নং অধ্যাদেশ) এর অধীনে গঠিত এবং উক্ত বিষয়ে নির্ধারিত এখতিয়ার সম্পন্নইউনিয়ন পরিষদকে বুঝায়।

৩৷ অত্র অধ্যাদেশ অন্যান্য আইনের উপর প্রাধান্য লাভ করবে (Ordinance to override other laws):

অপর কোন আইন, বিধি অথবা প্রচলিত রীতিতেযাই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলী কার্যকর হবে।সন্দেহ দূরীকরণেরউদ্দেশ্যে, এতদ্বারা ইহা ঘোষণা করা যাচ্ছে যে, ১৯৪০ সালের সালিসী আইন, ১৯০৮সালের দেওয়ানী কার্যবিধি এবং আদালতের কার্যধারা নিয়ন্ত্রণকারী অপর কোনআইনের কোন ব্যবস্থা সালিশী পরিষদে প্রযোজ্য হবে না।

৪৷ উত্তরাধিকার (Succession): যাহারসম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে বন্টিত হবে, তার পূর্বে তার কোন পুত্র বাকন্যা মারা গেলে এবং উক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি বন্টনের সময়উক্ত পুত্র বা কন্যার কোন সন্তানাদি থাকলে, তারা প্রতিনিধিত্বের হারেসম্পত্তির ঐ অংশ পাবে, যা তাদের পিতা অথবা মাতা জীবিত থাকলে পেতো।

৫৷ [বাতিল এই ধারাটি ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রেশন আইন দ্বারা বাদ দেওয়া হয়েছে]

৬৷ বহু বিবাহ (Polygamy):

(১) সালিশী পরিষদের লিখিত পূর্বানুমতিছাড়া কোন ব্যক্তি একটি বিবাহ বলবত থাকলে আরেকটি বিবাহ করতে পারবে না এবংপূর্ব অনুমতি গ্রহণ না করে এই জাতীয় কোন বিবাহ হলে তা মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রেশন) আইন, ১৯৭৪ (১৯৭৪ সনের ৫২নং আইন) অনুসারে রেজিষ্ট্রি হবেনা।

(২) (১) উপ-ধারায় বর্ণিত অনুমতির জন্যনির্দিষ্ট ফিসসহ নির্ধারিত পদ্ধতিতে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করতে হবে এবংআবেদনপত্রে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণ এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদেরসম্মতি নেওয়া হয়েছে কিনা, তা উল্লেখ করতে হবে।

(৩) উপরোক্ত (২) উপ-ধারা মোতাবেকআবেদনপত্র পাওয়ার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারী এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদেরপ্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে বলবেন এবং এইরূপে গঠিত সালিশীপরিষদ যদি মনে করেন যে, প্রস্তাবিত প্রয়োজন এবং ন্যায়সঙ্গত, তা হলে কোনশর্ত থাকলে উহা সাপেক্ষে, প্রার্থিত বিবাহের অনুমতি মঞ্জুর করতে পারেন।

(৪) আবেদনটি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণেরসময় সালিশী পরিষদ সিদ্ধান্তের কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করবেন এবং যে কোন পক্ষ, নির্দিষ্ট ফিস জমা দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট মুন্সেফের নিকটরিভিশনের (Revision) জন্য আবেদন দাখিল করতে পারবেন এবং সালিসী পরিষদেরসিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং কোন আদালতে উহার বৈধতা সম্পর্কে কোনপ্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

(৫) সালিশী পরিষদের অনুমতি ছাড়া কোন ব্যক্তি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে তাকে-

(ক) অবিলম্বে তার বর্তমান স্ত্রী বাস্ত্রীদের “তাত্ক্ষণিক” অথবা “বিলম্বিত” দেনমোহরের (Prompt or deferred dower) যাবতীয় টাকা পরিশোধ করতে হবে এবং উক্ত টাকা পরিশোধ করা না হলে উহাবকেয়া ভূমি রাজস্বের ন্যায় আদায়যোগ্য হবে।

(খ) অভিযোগক্রমে দোষী সাব্যস্ত হলে সে একবত্সর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবাউভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

৭৷ তালাক (Talaq):

(১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতেচাইলে, তিনি যে কোন পদ্ধতির তালাক ঘোষণার পর যথাশীঘ্র সম্ভব চেয়ারম্যানকেলিখিতভাবে নোটিশ দিবেন এবং স্ত্রীকে উক্ত নোটিশের একটি অনুলিপি (নকল)প্রদান করবেন।

(২) কোন ব্যক্তি (১) উপ-ধারার বিধান লংঘনকরলে তিনি এক বত্সর বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানাঅথবা উভয় প্রকার দণ্ডনীয় হবেন।

(৩) নিম্নের (৫) উপধারার বিধান অনুসারেপ্রকাশ্যে বা অন্য কোনভাবে তালাক, আগে প্রত্যাহার করা না হয়ে থাকলে, (১)উপধারা মোতাবেক চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ প্রদানের তারিখ হতে নব্বই দিনঅতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরী হবে না।

(৪) উপরোক্ত (১) উপধারা অনুযায়ী নোটিশপ্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট পক্ষদ্বয়ের মধ্যেপুনর্মিলন ঘটানোর উদ্দেশ্যে একটি সালিশী পরিষদ গঠন করবেন এবং উক্ত সালিসীপরিষদ এই জাতীয় পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

(৫) তালাক ঘোষণার সময় স্ত্রী গর্ভবতীথাকলে, (৩) উপধারায় বর্নিত সময়কালে অথবা গর্ভাবস্থা, যেটি পরে শেষ হয়, অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক বলবত হবে না।

(৬) অত্র ধারা অনুযায়ীতালাক দ্বারা যেস্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রী, এই জাতীয় তালাক তিনবার এইভাবেকার্যকরী না হলে, কোন তৃতীয় ব্যক্তিকে বিবাহ না করে পুনরায় একই স্বামীকেবিবাহ করতে পারবে।

৮৷ তালাক ছাড়া অন্যভাবে বিবাহ-বিচ্ছেদ (Dissolution of marriage otherwise than by talaq):

যেক্ষেত্রে তালাক দেয়ার অধিকার যথাযথভাবেস্ত্রীকে অর্পণ করা হয়েছে এবং স্ত্রী সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক বাস্ত্রী তালাক ব্যতীত অন্য কোন উপায়ে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটাতে চাহে, সেক্ষেত্রে ৭ধারার বিধানাবলী প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ যথাসম্ভব প্রযোজ্য হবে।

৯৷ ভরণ-পোষণ (Maintenance):

(১) কোন স্বামী তার স্ত্রীকে পর্যাপ্তভরণ-পোষণ বা খোরপোষ দানে ব্যর্থ হলে বা একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে তাহাদিগকেসমভাবে খোরপোষ না দিলে, স্ত্রী বা স্ত্রীগণ কেহ, অন্য কোন আইনানুগ প্রতিকারপ্রার্থনা ছাড়াও চেয়ারম্যানের নিকট দরখাস্ত করতে পারেন। এইক্ষেত্রেচেয়ারম্যান বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য সালিশী পরিষদ গঠন করবেন এবং ঐ পরিষদস্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণ-পোষণ বাবদ প্রদানের জন্য টাকার পরিমাণনির্দিষ্ট করে সার্টিফিকেট জারী (ইস্যু) করতে পারবেন।

(২) কোন স্বামী বা স্ত্রী নির্ধারিতপদ্ধতিতে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে এবং নির্দিষ্ট ফি প্রদান পূর্বক ঐইস্যুকৃত সার্টিফিকেট খানা পুর্নবিবেচনা জন্য সংশ্লিষ্ট মুন্সেফের নিকটআবেদন করতে পারবেন এবং তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং কোন আদালতেএই সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

(৩) উপরের (১) অথবা (২) উপ-ধারা মোতাবেক দেয় কোন টাকা যথাসময়ে বা সময়মত পরিশোধ করা না হলে বকেয়া ভূমি রাজস্ব হিসাবে আদায় করা চলবে।

১০৷ দেনমোহর (Dower):

নিকাহনামা বা বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরপরিশোধের পদ্ধতি নির্দিষ্টভাবে উল্লিখিত না থাকলে, দেনমোহরের সমগ্র অর্থচাহিবামাত্র পরিশোধযোগ্য (দেয়) বলে ধরে নিতে হবে।

১১৷ বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা (Power to make rules):

(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য কার্যে পরিণত করার জন্য সরকার বিধিমালা (নিয়মকানুন) প্রণয়ন করতে পারবেন।

(২) এই ধারায় বিধিমালা প্রণয়নের সময় সরকারএইরূপ বিধান রাখতে পারেন যে, বিধিমালার কোনটিভঙ্গের জন্য এক মাসপর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় প্রকারদণ্ড হতে পারে।

(৩) অত্র ধারা অনুসারে প্রণীত বিধিমালা সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হবে এবং অতঃপর তা এই অধ্যাদেশে বিধিবদ্ধ হয়েছে বলে গণ্য হবে।

১১ ক৷ বিচারের স্থান (Place of trial):

বর্তমানে প্রচলিত অন্য যে কোন আইনে যাইথাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের অধীনে কোন অপরাধের বিচার হবে সেই আদালতে যেআদালতের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে-

(ক) অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে; অথবা

(খ) অভিযোগকারী (বাদী) অথবা আসামী (বিবাদী) বসবাস করেন অথবা সর্বশেষ বসবাস করছিল।

১২৷ ১৯২৯ সনের বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনের সংশোধন (Amendmeent of the Dissolution of Muslim Marriage Act, ১৯২৯):

১ঌ২ঌ সনের বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনের -

(১) ২ ধারায় -

(ক) দফা (ক) তে ‘চৌদ্দ’ শব্দটির স্থলে ‘ষোল’ শব্দটি বসবে;

(খ) (গ) দফায় ‘এবং’ শব্দটি বাদ যাবে; এবং

(গ) (ঘ) দফার শেষের দিকে দাড়ির পরিবর্তে কমা বসবে এবং এরপর নিম্নলিখিত নুতন দফা (ঙ), (চ) এবং (ছ) যোগ হবে৷ যথা-

(ঙ) ‘মিউনিসিপ্যাল করর্পোরেশন’ বলতে ১৯৮২সালের চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮২ সনের ৩৫নং অধ্যাদেশ)অথবা ১৯৮৩ সনের ঢাকা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ). (১৯৮৩ সনের ৪০ নংঅধ্যাদেশ) বা ১৯৬৮৪ সালের খুলনা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮৪ সনের৭২ নং অধ্যাদেশ)-এর অধীনে গঠিত মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনকে বুঝাবে যারএখতিয়ারের মধ্যে কোন বাল্য-বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হওয়ার উপক্রম হয়েছে;

(চ) ‘পৌরসভা’ বলতে ১৯৭৭ সনের পৌরসভাঅধ্যাদেশের (১৯৭৭ সনের ২৬নং অধ্যাদেশ) অধীনে গঠিত পৌরসভাবে বুঝাবে, যাহারএখতিয়ারের মধ্যে কোন বাল্যবিবাহ হয়েছে বা হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

(ছ) ‘ইউনিয়ন পরিষদ’ বলতে ১৯৮৩ সনেরস্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ (১৯৮৩ সনের ৫১ নং অধ্যাদেশ) অনুসারেইউনিয়ন পরিষদ, যা এখতিয়ারে মধ্যে কোন বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হওয়ারউপক্রম হয়েছ।

(২) ৩ ধারাটি বাদ যাবে।

(৩) ৪ ধারায় ‘একুশ’ শব্দের পরিবর্তে ‘আঠার’ শব্দটি বসবে।

(৪) ৯ ধারায় …’অত্র আইনানুসারে’ শব্দগুলির পর ‘ইউনিয়ন পরিষদ’ অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভানা থাকলে সরকার কর্তৃক উক্ত বিষয়ে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ব্যতীতকোন অবস্থায় এইরূপ মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করা যাবে না৷ শব্দগুলি যুক্ত হবে; এবং

(৫) ১১ ধারাটি বাদ যাবে ।

১৩ ৷ ১৯৩৯ সনের মুসলিম বিবাহ-বিচ্ছেদ আইনের ( ১৯৩৯ সালের ৮ নং আইনের) সংশোধন:

১৯৩৯ সনের মুসলিম বিবাহ-বিচ্ছেদ আইনের (১৯৩৯ সালের ৮ নং আইন) এর ২ ধারায়-

(ক) দফা (ii)-এর পর নিম্নলিখিত নুতন উপ-দফা ( ii-ক) যুক্ত হবে, যথা:

(ii-ক) যেহেতু স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ব্যবস্থাবলী লংঘন করা একজন অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করেছে; এবং

(খ) (vii) দফায় ‘পনের’ শব্দটির পরিবর্তে ‘ষোল’ শব্দটি বসবে।

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>> 

অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮ঌ০ The Guardians and Wards Act, 1890  (১৮ঌ০ সনের ৮নং আইন)

অভিভাবক এবং প্রতিপাল্য সম্পর্কিত আইনএকীকরণ ও সংশোধন করার আইন। যেহেতু অভিভাবক এবং প্রতিপাল্য সম্পর্কিত আইনএকীকরণ ও সংশোধন করা সমীচীন; সেহেতু উহা এতদ্বারা নিম্নরূপ বিধিবদ্ধ করাহল।

১ম অধ্যায়

প্রারম্ভিক

ধারা-১। শিরোনাম, আওতা ও প্রারম্ভ :

(১) এই আইনকে অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০ নামে অভিহিত করা যেতে পারে,

(২) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য, এবং

(৩) ১৮৯০ সনের ১ জুলাই হতে ইহা কার্যকর হবে।

ধারা-২। ১৯৩৮ সনের ১নং আইন দ্বারা বাতিল করা হয়েছে।

ধারা-৩। ১৯৭৩ সনের ৮নং আইনের ২ ধারা দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে।

ধারা-৪। সংজ্ঞা :

এই আইনের বিষয়ে বা প্রসঙ্গে পরিপন্থী কিছু না থাকলে-

(১) “নাবালক” বলতে ১৮৭৫ সালের (১৮৭৫ সনের ৯নং আইন) সাবালকত্ব মর্ম মতে যে এখনো সাবালকত্ব লাভ করে নাই তাকে বুঝায়।

(২) “অভিভাবক” বলতে যে ব্যক্তি কোন নাবালকের শরীর অথবা সম্পত্তি অথবা সম্পত্তি ও শরীর উভয়ের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত তাকে বুঝায়।

(৩) “প্রতিপাল্য” বা “ওয়ার্ড” বলতে একজন নাবালক যার শরীর বা সম্পত্তি অথবা শরীর এবং সম্পত্তির জন্য একজন অভিভাবক আছে তাকে বুঝায়।

(৪) জেলা আদালত বলতে দেওয়ানী কার্যবিধিতে (১৯০৮ সনের ৫নং আইন) যে অর্থ বুঝান হয়েছে তা বুঝায় এবং হাইকোর্ট ডিভিশনেরসাধারণ মূল দেওয়ানী অধিক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত করে;

(৫) “আদালত” বলতে-

(ক) এই আইনে কোন ব্যক্তিকে অভিভাবক নিযুক্ত অথবা ঘোষণা করার জন্য দরখাস্ত গ্রহণ করার বৈধ কর্তৃত্বসম্পন্ন জেলা আদালতকে বুঝায়, অথবা

(খ) যেখানে এরূপ কোন দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করা হয়েছে-

(i) আদালত অথবা ঐ কর্মকর্তার আদালত যিনিঅভিভাবক নিয়োগ অথবা ঘোষণা করেছেন অথবা এই আইনে অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণাকরেছেন বলে মনে করা হয়, অথবা

(ii) নাবালকের শরীর সম্বন্ধে যেকোন ব্যাপারে নাবালক কিছু সময়ের জন্য সাধারণত যেখানে বসবাস করে সে এলাকার জেলা আদালত, অথবা

(গ) ৪ক ধারায় বদলিকৃত কোন মামলা ঐ কর্মকর্তার আদালতে যার নিকট উক্ত মামলা বদলি উক্ত মামলা বদলি করা হয়েছে।

(৬) “কালেক্টর” বলতে কোন জেলার রাজস্বপ্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তাকে বুঝায় এবং সরকার গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমেনামে বা পদ মর্যাদার বলে কাকে কোন স্থানীয় এলাকার জন্য বা এই আইনের সকল বাকোন উদ্দেশ্যে কোন শ্রেণীর লোকের জন্য কালেক্টর নিযুক্ত করলে তাওঅন্তর্ভুক্ত করবে;

(৭)১৯৭৩ সনের ৮নং আইনের ৩ ধারা, ২য় তফশিল দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে

(৮) “নির্ধারিত” বলতে মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক নির্ধারিত কোন বিধিকে বুঝায়।

ধারা-৪ক। অধ:স্তন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার উপর কর্তৃত্ব আরোপ করার এবং মামলাবদলি করার ক্ষমতা :

(১)হাইকোর্ট ডিভিশন সাধারণ বাবিশেষ আদেশ দ্বারা মূল দেওয়ানী কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে জেলা আদালতের অধ:স্তনএমন কোন কর্মকর্তাকে বা কোন জেলা আদালতের জজকে তার অধ:স্তন কোন কর্মকর্তাকেতার নিকট বদলিকৃত যেকোন মামলা এই ধারা অনুসারে নিষ্পত্তি করবার জন্যক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন।

(২)কোন জেলা আদালতের জজ লিখিতআদেশ দ্বারা নিষ্পত্তির জন্য তাঁর আদালতে অপেক্ষমান এই আইনের যেকোন মামলা (১) উপ-ধারার ক্ষমতাপ্রাপ্ত তার অধ:স্তন যেকোন আদালতে বদলি করতে পারেন।

(৩)কোন জেলা আদালতের জজ (১)উপ-ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত তার অধ:স্তন যে কোন আদালতে বা এমন ধরনের অন্য কোনঅধ:স্তন কর্মকর্তার আদালতে অপেক্ষমান এই আইনের কোন মামলা তার নিজ আদালতে বাএমন ধরনের অন্য কোন অধ:স্তন কর্মকর্তার আদালতে বদলি করতে পারেন।

(৪)অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষিত হয়েছে এমনধরনের এই আইনের কোন মামলা বদলি করা হলে জেলা আদালতের জজ লিখিত আদেশ দ্বারাঘোষণা করতে পারেন যে, সেখানে এমন ধরনের মামলা বদলি হয়েছে তেমন জজের আদালতবা অফিসকে এই আইনের কোন বা সব উদ্দেশ্য অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষিত হওয়ার আদালতমনে করা হবে।

২য় অধ্যায়

অভিভাবক নিয়োগ ও ঘোষণা

ধারা-৫। ১৯৭৩ সনের ৮নং আইন, ৩ ধারা ও ২য় তফশিল দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে।

ধারা-৬। অন্যক্ষেত্রে নিয়োগ ক্ষমতার ব্যতিক্রম:

এই ধারার কোন কিছু দ্বারাই কোন নাবালকেরশরীর বা সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগের ক্ষমতা যা আইনে বৈধ তা নিয়ে যাওয়া বাকমিয়ে দেয়া ব্যাখ্যা করা যাবে না।

ধারা-৭অভিভাবকত্বের ব্যাপারে আদেশ প্রদানে আদালতের ক্ষমতা:

(১) যেখানে আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে নাবালকের মঙ্গলের জন্য আদেশ প্রদান করা প্রয়োজন-

(ক) তার শরীর অথবা সম্পত্তি অথবা উভয়ের ব্যাপারে একজন অভিভাবক নিযুক্ত করে, অথবা

(খ) কোন ব্যক্তিকে তেমন অভিভাবক ঘোষণা করে আদালত তদানুসারে আদেশ প্রদান করতে পারেন;

তবে শর্ত এই যে নাবালক বাংলাদেশের নাগরিক হলে বাংলাদেশী নাগরিক ছাড়া অন্য কাকেও তার অভিভাবক নিযুক্ত করা যাবে না।

(২) উইল বা অন্য কোন দলিল দ্বারা নিযুক্ত না হলে অথবা কর্তৃক ঘোষিত না হলে এই ধারাবলে কোন আদেশ কোন অভিভাবকের অপসারণ বুঝাবে।

(৩) যেক্ষেত্রে কোন অভিভাবক উইল বা অন্যদলিল দ্বারা অথবা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত বা ঘোষিত হয়েছে সেক্ষেত্রে এ ধারায়অন্য কোন ব্যক্তিকে তার পরিবর্তে অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষণা করা যাবে না যেপর্যন্ত না উক্তভাবে নিযুক্ত বা ঘোষিথ অভিভাবক এই আইন অনুসারে দায়িত্ব পালনবন্ধ করেছে।

ধারা-৮আদেশ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে যারা স্বত্ববান:

শেষোক্ত ধারাগুলির অধীনে নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গের দরখাস্ত ছাড়া কোন আদেশ দেয়া হবে না-

(ক) যে ব্যক্তি অভিভাবক হতে ইচ্ছুক বা অভিভাবক হবার দায়ী করে, অথবা

(খ) নাবালকের কোন আত্নীয় বা বন্ধু, অথবা

(গ) জেলা কালেক্টর বা অন্য স্থানীয় এলাকার যেখানে নাবালক সাধারণত বসবাস করে অথবা যেখানে তার সম্পত্তি আছে, অথবা

(ঘ) নাবালক যেই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত সেই শ্রেণীর উপর কর্তৃত্ব আছে এমন কালেক্টর।

ধারা-৯দরখাস্ত গ্রহণ করায় আদালতের এখতিয়ার:

(১) যদি দরখাস্ত নাবালকের বা প্রতিপাল্যেরশরীরেরঅভিভাবকত্বের ব্যাপারে হয় তা হলে নাবালক সাধারণত যেখানে বসবাস করেসে এলাকার জেলা আদালতে তা দাখিল করতে হবে।

(২) যদি দরখাস্ত নাবালকের বা প্রতিপাল্যেরসম্পত্তির অভিভাবকত্বের ব্যাপারে হয় সে ক্ষেত্রে উহা এক হয় নাবালক যেখানেসাধারণত বসবাস করে বা যেখানে তার সম্পত্তি আছে সেই এলাকার জেলা আদালতেদাখিল করতে হবে।

(৩) নাবালকের বা প্রতিপাল্যের সম্পত্তিরঅভিভাবকত্বের ব্যাপারে নাবালক যেখানে সাধারণত বাস করে সে এলাকার জেলা আদালতছাড়া অন্য আদালতে দরখাস্ত করলে, উক্ত আদালত এখতিয়ার সম্বলিত অন্য জেলাআদালত কর্তৃক উক্ত দরখাস্ত আরো ন্যায়ত ও সুবিধাজনকভাবে নিষ্পত্তি হবেবিবেচনা করলে উক্ত দরখাস্ত ফেরত দিতে পারবেন।

ধারা-১০দরখাস্তের ধরন:

(১) যদি কালেক্টর দরখাস্ত না দেন তা হলেদেওয়ানী কার্যবিধিতে (১৯৮০ সনের ৫নং আইন) আরজি দরখাস্ত ও প্রতিপাদনের জন্যনির্ধারিত নিয়মে ঐ দরখাস্তেও স্বাক্ষর ও প্রতিপাদন হতে এবং যতদূর পর্যন্তনির্ণয় করা যায়-

(ক) নাবালকের নাম, লিঙ্গ, জণ্ম তারিখ এবং তাহার সাধারণ বাসস্থান;

(খ) নাবালক স্ত্রীলোক হলে সে বিবাহিতা কিনা এবং সেক্ষেত্রে তার স্বামীর নাম এবং বয়স;

(গ) নাবালকের সম্পত্তির রকম, অবস্থান এবং আনুমানিক মূল্য, যদি থাকে;

(ঘ) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির জিম্মাদার বা দখলকারের নাম এবং বাসস্থান;

(ঙ) নাবালকের নিকট আত্নীয় কারা এবং তাদের বাসস্থান;

(চ) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির বা উভয়েরঅভিভাবক নিয়োগ দানে স্বত্বাধিকারী বা আইনগত নিযুক্তি দিতে অধিকারী বলেদাবীকারী কর্তৃক নিযুক্ত হয়েছে কি না;

(ছ) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির বা উভয়েরঅভিভাবকত্বের জন্য কোন সময়ে কোন আদালতে দরখাস্ত করা হয়েছিল কিনা এবংসেক্ষেত্রে কোন আদালতে এবং কি ফলাফল;

(জ) দরখাস্ত নাবালকের শরীর বা সম্পত্তি বা উভয়ের অভিভাবক নিয়েগ বা ঘোষণার জন্য কি না;

(ঝ) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির বা উভয়ের জন্য অভিভাবক নিযুক্তি বা ঘোষণার জন্য আবেদন কি না;

(ঞ) অভিভাবকের নিযুক্তির আবেদন হলে প্রস্তাবিত অভিভাবকের যোগ্যতাসমূহ;

(ট) কোন ব্যক্তিকে অভিভাবক ঘোষণার দরখাস্ত হলে উক্ত ব্যক্তির দাবীর ভিত্তিসমূহ;

(ঠ) দরখাস্ত করার কারণসমূহ; এবং

(ড) অন্যান্য বিবরণ যদি নির্ধারিত থেকে থাকে অথবা দরখাস্তের প্রকৃতির জন্য প্রয়োজন হয়, তা বর্ণনা করবেন।

(২) কালেক্টর কর্তৃক উক্ত দরখাস্ত করা হলেচিঠির আকারে আদালতে প্রেরণ করতে হবে এবং ডাক বা সুবিধাজনক মনে করা তেমনকোন উপায়ে পাঠাতে হবে এবং দরখাস্তে (১) উপধারায় বর্ণিত বিবরণগুলি যতদূরসম্ভব দিতে হবে।

(৩) দরখাস্তে প্রস্তাবিত অভিভাবকের কাজকরার ইচ্ছামুক্ত ঘোষণা থাকতে হবে এবং ঐ ঘোষণা তার স্বাক্ষরিত হতে হবে এবংদু’জন স্বাক্ষী দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে।

ধারা-১১দরখাস্ত গ্রহণের পর পদ্ধতি:

(১) যদি আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যেদরখাস্তটি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার যথে কারণ আছে তা হলে উহা শুনানির জন্য একটিদিন ঠিক করবেন এবং দরখাস্ত ও শুনানির তারিখের নোটিশ দিবেন-

(ক) দেওয়ানী কার্যবিধিতে নির্দেশিত মতে নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের উপর জারি করাতে হবে।

(১) নাবালকের মাতাপিতা যদি তারা বাংলাদেশ বাস করে;

(২) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তি জিম্মাদার বা দখলদার হিসাবে দরখাস্তে বা পত্রে কারো নাম উল্লেখ করা হয়ে থাকলে;

(৩) উক্ত ব্যক্তি নিজে দরখাস্তকারী হয়ে থাকলে দরখাস্ত বা পত্রে যাকে অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়েছে; এবং

(খ) আদালতের কোন সুপ্রকাশ্য স্থানে এবংনাবালকের বাসস্থানে নোটিশ টাঙ্গাতে হবে এবং এই আইন অনুসারে সুপ্রীম কোর্টেরকোন বিধি সাপেক্ষে আদালত যেভাবে উপযুক্ত মনে করে সেভাবে প্রচার করতে হবে।

(২) ১০ ধারার (১) উপধারা অনুযায়ী দরখাস্তেউল্লিখিত কোর্ট অব ওয়ার্ডস তত্ত্বাবধান গ্রহণ করতে পারে এই মর্মে সরকারসাধারণ বা বিশেষ আদেশ দিতে পারে আদালত ও যে কালেক্টরের এলাকায় সাধারণতবসবাস করে এবং সব কালেক্টরের উপর যাদের জেলায় সম্পত্তির অংশবিশেষ অবস্থিততাদের উপর উপরোল্লিখিত উপায়ে নোটিশ জারি করবেন, কালেক্টরও যেভাবে উপযুক্তমনে করেন সেভাবে নোটিশ জারি করতে পারবেন।

(৩) (২) উপ-ধারা অনুযায়ী কোন নোটিশ জারির জন্য বা প্রচারের জন্য আদালত বা কালেক্টর কোন খরচ ধার্য করবেন না।

ধারা-১২। নাবালকের উপস্থাপনের জন্য এবং সম্পত্তি বা শরীরের মধ্যকালীন সংরক্ষণের জন্য অর্ন্তবর্তীকালীন আদেশ প্রদানের ক্ষমতা:

(১) প্রতিপাল্য বা নাবালককে কোন নির্দিষ্টস্থানে নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে নিযুক্ত ব্যক্তির সম্মুখে উপস্থিত করা বাকরানোর জন্য তার জিম্মাদার কেহ থেকে থাকলে আদালত তাকে নির্দেশ দিতে পারবেনএবং নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির অস্থায়ী জিম্মা সংরক্ষণের জন্য উপযুক্তবিবেচনা করলে আদেশ দিতে পারবেন।

(২) যদি নাবালক “মেয়ে” হয় যাকে জনসম্মুখেউপস্থিত করান উচিত নয় সেক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতি অনুসারেতাকে উপস্থিত করবার জন্য (১) উপধারা মোতাবেক আদেশ প্রদান করতে হবে।

(৩) এই ধারার কোন কিছুই ক্ষমতা প্রদান করবে না-

(ক) স্বামী হওয়ার কারণে অভিভাবক হিসাবেদাবী করে এমন ব্যক্তির জিম্মায় কোন নাবালক মেয়েকে দেয়া যাবে না যদি নাইতোপূর্বেই তার পিতামাতার (যদি থেকে থাকে) সম্মতিতে সে তার জিম্মায় থেকেথাকে; অথবা

(খ) কোন নাবালকের অস্থায়ী জিম্মাদার এবংসম্পত্তির সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি আইন অধীনে ছাড়া অন্যভাবে কোনসম্পত্তির দখলদারকে বেদখল করবার।

ধারা-১৩। আদেশের পূর্বে সাক্ষ্য গ্রহণ:

দরখাস্ত শুনানীর দিন অথবা যথাশীঘ্র সম্ভব তত্পরে দরখাস্তের পক্ষে বিপক্ষে দেয়া সাক্ষ্যসমূহ আদালত শুনবেন।

ধারা -১৪বিভিন্ন আদালতে যুগপত কার্যাবলী (প্রসিডিং):

(১) অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণার মামলা একাধিকআদালতে চলতে থাকলে প্রত্যেক আদালত অন্য আদালত বা আদালত সমূহের মামলারব্যাপারে অবগত হওয়ার পর নিজ আদালতের মামলা স্থগিত রাখবেন।

(২) এরূপ উভয় বা সকল আদালত একই হাইকোর্টডিভিশনের অধস্তন হলে প্রত্যেক আদালত উক্ত মামলার ব্যাপারে হাইকোর্টডিভিশনের প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং হাইকোর্ট ডিভিশন নাবালকের অভিভাবক নিয়োগবা ঘোষণা সম্পর্কে উক্ত মামলা কোন আদালতে চলবে তা সিদ্ধান্ত নিবেন।

(৩) (১) উপধারা মোতাবেক স্থগিত মামলারব্যাপারে আদালতগুলি সরকারের নিকট প্রতিবেদন দিবেন এবং এ ব্যাপারে স্ব স্বসরকারের প্রদত্ত আদেশ অনুসারে পরিচালিত হবেন।

ধারা-১৫বহু অভিভাবক নিযুক্তি বা ঘোষণা:

(১) নাবালক যে আইনের অধীনউক্তআইন যদিতার শরীর, সম্পত্তি অথবা উভয়ের জন্য দুই বা ততোধিক যুগ্ন অভিভাবক অনুমোদনকরে আদালত উপযুক্ত মনে করলে তাদেরকে অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করতে পারেন।

(২) ও (৩) উপধারা ১ঌ৭৩ সনের ৮নং আইন দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে।

(৪) নাবালকের শরীর ও সম্পত্তির জন্য ভিন্ন অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষণা করা যায়।

(৫) নাবালকের অনেক সম্পত্তি থাকলে আদালতউপযুক্ত মনে করলে উক্ত সম্পত্তির প্রত্যেকটির বা অনেকটির জন্য ভিন্ন ভিন্নঅভিভাবক নিযুক্ত করতে পারেন।

ধারা-১৬আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা:

কোন আদালত উহার স্থানীয়এখতিয়ার বহির্ভূতসম্পত্তির জন্য কোন অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করলে যে আদালতের এখতিয়ারেরমধ্যেসম্পত্তি অবস্থিত উক্ত আদালত অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণার জাবেদা নকলউপস্থাপনের পর উক্ত অভিভাবককে বৈধভাবে নিযুক্ত বা ঘোষিত অভিভাবক হিসাবেগ্রহণ করবেন এবং ঐ আদেশটি কার্যকরী করবেন।

ধারা-১৭অভিভাবক নিয়োগকালে আদালত কর্তৃক বিবেচ্য বিষয়সমূহ:

(১) নাবালকের অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণাকালেএই ধারার ব্যবস্থাবলী সাপেক্ষে নাবালক যে ব্যক্তিগত আইনের দ্বারা পরিচালিতউহার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করবেন এবং উক্ত নাবালকের মঙ্গলের জন্য যা উত্তমবিবেচনা করবেন সেরূপ আদেশ দিবেন।

(২) নাবালকের মঙ্গলের জন্য কোনটি উত্তম তাবিবেচনাকালে আদালত উক্ত নাবালকের অন্যান্য নিকট আত্নীয় বা জ্ঞাতির চরিত্রক্ষমতা, আত্নীয়তার নৈকট্য, মৃত পিতা-মাতার কোন ইচ্ছা থাকলে তা এবং নাবালকেরকিংবা তার সম্পত্তির সঙ্গে প্রস্তাবিত অভিভাবকের বর্তমান অথবা পূর্বেরসম্পর্কের ব্যাপারে দৃষ্টি রাখবেন।

(৩) নাবালক এর বুঝবার বয়স ও ক্ষমতা থাকলে আদালত তাও বিবেচনা করবেন।

(৪) ১৯৭৩ সনের ৮নং আইন দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে।

(৫) কোন ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আদালত অভিভাবক নিয়োগ করবেন না।

ধারা-১৮পদাধিকার বলে কালেক্টরের নিয়োগ বা ঘোষণা:

যেক্ষেত্রে আদালত কালেক্টরকে পদাধিকার বলেনাবালকের শরীর, সম্পত্তি বা উভয়ের অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করেন, উক্তনিয়োগ বা ঘোষণার আদেশ নাবালকের শরীর বা সম্পত্তি বা উভয়ের অভিভাবক হিসাবেকাজ করার জন্য ঐ পদে ঐ সময়ে বিদ্যমান ব্যক্তিকে ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে মনেকরা হবে।

ধারা-১৯বিশেষ ক্ষেত্রে আদালত অভিভাবক নিয়োগ করবেন না:

যে নাবালকের সম্পত্তি কোর্ট অব ওয়ার্ডস এরতত্ত্বাবধানে আছে সেক্ষেত্রে নাবালকের সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণাকরার অধিকার অত্র ধারা অনুযায়ী আদালতের নাই অথবা নিম্নরূপ ক্ষেত্রে শরীরেরঅভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করবার-

(ক) যেই নাবালক বিবাহিতামহিলা এবং যার স্বামী আদালতের মতে অভিভাবক হওয়ার অনুপযুক্ত নহে, অথবা

(খ) ইউরোপিয়ান বৃটিশ প্রজাদের বেলায় এইআইনের ব্যবস্থা সাপেক্ষে যে নাবালকের পিতা জীবিত এবং আদালতেরমতেনাবালকের শরীরের অভিভাবক হওয়ার অনুপযুক্ত নহে, অথবা

(গ) যেই নাবালকের সম্পত্তি কোর্ট অব ওয়ার্ডস এর তত্ত্বাবধানে যা নাবালকের শরীরের ব্যাপারে অভিভাবক নিয়োগের উপযুক্ত।

তৃতীয় অধ্যায়

অভিভাবেকর কর্তব্য, সাধারণ অধিকার ও দায়-দায়িত্ব

ধারা-২০অভিভাবকের সঙ্গে নাবালকের বিশ্বাসের সম্পর্ক:

(১) নাবালকের সঙ্গে অভিভাবকের সম্পর্কবিশ্বাসের এবং উইল বা অন্য কোন দলিলের (যদি থাকে) যার অনুবলে তাকে নিয়োগকরা হয়েছে উহার শর্ত ছাড়া, অথবা, এই আইনের ব্যবস্থা ছাড়া অভিভাবক তার পদদ্বারা কোন লাভ করতে পারবে না;

(২) নাবালকের সঙ্গে অভিভাবকের বিশ্বাসেরসম্পর্ক অভিভাবক কর্তব্য নাবালকের বা নাবালক কর্তৃক অভিভাবকের সম্পত্তিক্রয় এবং নাবালক সাবালক হওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সাধারণত অভিভাবকের প্রভাবথাকাকালীন তাদের মধ্যকার লেনদেন সমূহকে প্রভাবিত করে।

ধারা-২১নাবালকের অভিভাবক হিসাবে কাজ করার ক্ষমতা:

একজন নাবালক তা স্ত্রী বা সন্তান ছাড়াঅন্য কোন নাবালকের অভিভাবক হিসাবে কাজ করতে অক্ষম, অথবা যেক্ষেত্রে সে (নাবালক) যৌথ হিন্দু পরিবারের নির্বাহী সদস্য সেক্ষেত্রে ঐ পরিবারের অন্যনাবালকের স্ত্রী অথবা সন্তানেরা ছাড়া।

ধারা-২৩অভিভাবক হিসাবে কালেক্টরের নিয়ন্ত্রণ:

নাবালকের শরীর, সম্পত্তি বা উভয়ের জন্যকালেক্টর আদালত কর্তৃক অভিভাবক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত হলে তিনিনাবালকের অভিভাবকত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যাপারে সরকারের বা এতদপক্ষেগেজেট নোটিফিকেশন দ্বারা নিয়োগ প্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষেহবেন।

ব্যক্তির অভিভাবক

ধারা-২৪ব্যক্তির অভিভাবকের কর্তব্য:

একজন নাবালক বা প্রতিপাল্যের অভিভাবককেউক্ত প্রতিপাল্যের জিম্মার ভারার্পণ করা হয় এবং তাকে অবশ্যই প্রতিপাল্যেরভরণ-পোষণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্য সমস্ত ব্যাপার যেগুলি প্রতিপাল্য যেআইনের অধীনে সে আইনে প্রয়োজন, উহার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।

ধারা-২৫প্রতিপাল্যের জিম্মায় অভিভাবকের হক:

(১) যদি কোন নাবালক বা প্রতিপাল্য তারব্যক্তির অভিভাবকের জিম্মা ত্যাগ করে বা তাকে জিম্মা হতে অপসারণ করা হয়, প্রতিপাল্যের মঙ্গল বিবেচনায় তাকে অভিভাবকের জিম্মায় ফেরত দেয়া আদালতউপযুক্ত বিবেচনা করলে তার ফেরতের জন্য আদেশ প্রদান করতে পারেন এবং ঐ আদেশবলবত করবার জন্য প্রতিপাল্যকে গ্রেফতার করতে এবং অভিভাবকের জিম্মায়প্রত্যার্পণ করাতে পারেন।

(২) প্রতিপাল্যকে গ্রেপ্তার করার ব্যাপারেআদালত ১৮৯৮সনের ফৌজদারী কার্যবিধির (১৮ঌ৮ সনের ৫নং আইন) ১০০ ধারাবলেপ্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন।

(৩) অভিভাবক নয় এমন ব্যক্তির সঙ্গে অভিভাবকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাস করার কারণ অভিভাবকত্ব আপনা-আপনি অবসান হয় না।

ধারা-২৬প্রতিপাল্যকে এখতিয়ার হতে অপসারণ:

(১) অভিভাবক কালেক্টর না হলে অথবা উইল বাঅন্য কোন দলিল দ্বারা নিযুক্ত না হলে আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিতঅভিভাবক নির্ধারিত উদ্দেশ্য ছাড়া আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে প্রতিপাল্যকেতার এখতিয়ারের সীমা হতে অপসারণ করতে পারবেন না।

(২) (১) উপধারায় প্রদত্ত অনুমতি বিশেষ বা সাধারণ হতে পারে এবং অনুমতির আদেশে তা বর্ণিত হতে পারে।

ধারা-২৭সম্পত্তির অভিভাবকের কর্তব্যসমূহ:

প্রতিপাল্য বা নাবালকের সম্পত্তির অভিভাবকসাধারণ পরিণামদর্শী ব্যক্তির মত যতদূর সম্ভব সাবধানতার সঙ্গে তার নিজেরসম্পত্তির মত উক্ত সম্পত্তি ব্যবহার করতে বাধ্য এবং এই অধ্যায়েরব্যবস্থাবলী সাপেক্ষে সম্পত্তি অস্তিত্বদান (রিয়েলাইজেশন) সংরক্ষণ অথবাকল্যাণের জন্য যুক্তিসঙ্গত এবং উপযুক্ত সব কাজ করতে পারবেন।

ধারা-২৮উইলগত অভিভাবকের ক্ষমতা:

উইল বা অন্য কোন দলিল দ্বারা নিযুক্তঅভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রতিপাল্য বা নাবালকের অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক বাজিম্মা বা বিক্রি, দান, বিনিময় বা অন্যভাবে হস্তান্তর করার ক্ষমতা দলিলেরবাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রয়োগযোগ্য হবে, তবে এ আইনের অধীনেতাকে অভিভাবকঘোষণা করা হলে এবং দলিলের বাধা-নিষেধ সত্ত্বেও আদালত লিখিত আদেশ দ্বারা কোনঅস্থাবল সম্পত্তি অনুমতিতে বর্ণিত উপায়ে হস্তান্তর করার অনুমতি দিতেপারেন।

ধারা-২৯আদালত কর্তৃক নিযুক্ত বা ঘোষিত অভিভাবকের ক্ষমতার সীমা:
কালেক্টর অথবা উইল বা অন্য দলিল দ্বারা নিযুক্ত অভিভাবক ছাড়া যে ব্যক্তিআদালত কর্তৃক প্রতিপাল্য বা নাবালকের অভিভাবক হিসাবে ঘোষিত হয়েছেন তিনিআদালতের পূর্ব অনুমতি ছাড়া-
(ক) তার প্রতিপাল্য বা নাবালকের অস্থাবর সম্পত্তির কোন অংশ বন্ধক, জিম্মাঅথবা বিক্রি, দান, বিনিময় বা অন্যভাবে হস্তান্তর করতে পারবে না, অথবা
(খ) পাঁচ বছরের অধিক সময়ের জন্য কিংবা যে তারিখে নাবালক সাবালক হবে তারপরএক বছরের অধিক সময়ের জন্য তার সম্পত্তির কোন অংশের ইজারা বা পাট্টা প্রদানকরতে পারবে না।

ধারা-৩০২৮ ধারা বা ২৯ ধারা লংঘনে হস্তান্তরের বাতিল যোগ্যতা:
সর্বশেষ উল্লেখিত দুইটি ধারার যে কোন একটি লংঘন করে কোন অভিভাবক স্থাবরসম্পত্তি ব্যবস্থাপনা করলে তাদ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত যে কোন ব্যক্তির উদ্যোগেতা বাতিলযোগ্যহবে।

ধারা-৩১২৯ ধারার হস্তান্তরে অনুমতি প্রদানে চলতি নিয়ম:
(১) ২৯ ধারায় বর্ণিত যেকোন কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র ব্যতীত অথবাপ্রতিপাল্য বা নাবালকের সুস্পষ্ট সুবিধার জন্য ছাড়া আদালত অভিভাবককে কোনঅনুমতি দিবেন না।
(২) অনুমতি প্রদানের আদেশে প্রয়োজনীয়তা বা সুবিধার বর্ণনা থাকবে, যে কার্যেসম্পাদনের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে সে সম্পত্তির বর্ণনা থাকবে এবং আদালতযেখানে সঠিক মনে করেন সেরূপ শর্ত অনুমতির সঙ্গে সংযুক্ত করবেন এবং জজ তাঁরনিজ হাতে আদেশ লিখতে কোন কারণে বাধাগ্রস্ত হন তা হলে তার শ্রুতলিপিতে আদেশলেখা হবে এবং তারিখ ও স্বাক্ষর তাঁর স্বহস্তে হবে।
(৩) আদালত ইচ্ছা করলে নিম্নলিখিত শর্তগুলো অনুমতির সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারেন যে,
(ক) আদালতের অনুমতি ছাড়া বিক্রি সম্পন্ন হবে না;
(খ) এই আইনের অধীনে সুপ্রীম কোর্টের প্রণীত বিধি সাপেক্ষে আদালতেরনির্দেশমত বিক্রিকালে প্রস্তাবিত বিক্রির ঘোষণার পর কোন নির্দিষ্ট জায়গায়নির্দিষ্ট সময়ে আদালতের সামনে বা উক্ত উদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক বিশেষভাবেনিযুক্ত ব্যক্তিবর্গের সামনে সর্বোচ্চ ডাককারীর নিকট প্রকাশ্য নিলামেবিক্রি করতে হবে;
(গ) প্রিমিয়াম বা অধিমূল্য বিবেচনায় ইজারা দেয়া হবে না বা আদালতের নির্দেশঅনুযায়ী এরূপ মেয়াদের বছরের শর্তে এবং খাজনা ও চুক্তির সাপেক্ষে দেওয়া হবে।
(ঘ) অভিভাবক অনুমতি প্রদত্ত কার্যের লব্ধ টাকার সম্পূর্ণ বা আংশিক আদালতেজাম দিবে যা হতে ব্যয় করা হবে অথবা নির্ধারিত জামিনে বিনিয়োগ করা হবে অথবাআদালতের নির্দেশে অন্যভাবে হস্তান্তর করা হবে।
(৪) ২৯ ধারায় বর্ণিত অভিভাবককে কোন কার্যের অনুমতি প্রদানের পূর্বে আদালতেঅনুমতির দরখাস্তের নোটিশ প্রতিপাল্য বা নাবালকের আত্নীয় বা বন্ধুর উপর, আদালতের মতে যাহারা উক্ত নোটিশ পাওয়া উচিত, জারী করা হতে পারে এবং ঐদরখাস্তের বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তি উপস্থিত হলে আদালত তার বক্তব্য শুনবেন এবংতার বিবৃতি লিপিবদ্ধ করবেন।

ধারা-৩২আদালতের নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবকের ক্ষমতার পরিবর্তন:
যেখানে কোন নাবালকের অভিভাবক কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত হয়েছেন এবংতিনি কালেক্টর নন সেক্ষেত্রে আদালত নাবালক বা প্রতিপাল্যের ব্যক্তিগত আইনেরসঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তার মঙ্গলের জন্য সম্পত্তির ব্যাপারে অভিভাবকেরক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে বা বাড়িয়ে যেভাবে উপযুক্ত মনে করেন সেভাবে আদেশ দিতেপারেন।

ধারা-৩৩এরূপ নিয়োগপ্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবকের নাবালকের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ব্যাপার আদালতের অভিমত চেয়ে দরখাস্ত করার অধিকার:
(১) আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত কোন অভিভাবক উক্ত আদালতের নিকটনাবালকের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনের যেকোন বর্তমান প্রশ্নের উপরমতামত, উপদেশ অথবা নির্দেশের জন্য আদালতের নিকট দরখাস্ত করতে পারেন।
(২) আদালত যদি উক্ত প্রশ্নকে সংক্ষিপ্তভাবে নিষ্পত্তির যোগ্য মনে করেন তবেআদালত উপযুক্ত মনে করলে যে সমস্ত স্বার্থযুক্ত ব্যক্তি শুনানিতে যোগ দিবেনতাদের উপর উক্ত দরখাস্তের নকল জারি করবেন।
(৩) অভিভাবক সরল বিশ্বাসে দরখাস্তে ঘটনা বিবৃত করে এবং আদালতের দেয়া মতামতউপদেশ বা নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলে দরখাস্তের বিষয়বস্তুর ব্যাপারে অভিভাবকহিসাবে তা কর্তব্য সম্পন্ন করা হয়েছে বলে মনে করা হবে।

ধারা-৩৪আদালতের নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত সম্পত্তির অভিভাবকের দায়িত্ব:
যেখানে নাবালকের সম্পত্তির অভিভাবক কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত হয়েছে এবং কালেক্টর না হলে তিনি-

(ক) নাবালকের সাময়িক মঙ্গল নিশ্চিত করারজন্য আদালত চাইলে যথাসম্ভব নির্ধারিত ফর্মায় আদালতের বিচারকদের নিকটজামানতসহ বা ছাড়া যেমন নির্ধারিত করা হয়, মুচলেকা দিতে হবে এবং নাবালকেরসম্পত্তি হতে যা পাওয়া যায় তার হিসাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিবে।
(খ) আদালত যদি প্রয়োজন মনে করে নিয়োগ বা ঘোষণার ছয় মাসের মধ্যে অথবাআদালতের নির্দেশিত সময়ের মধ্যে বা নাবালক বা প্রতিপাল্যের সম্পত্তি, টাকাএবং অন্য স্থাবর সম্পত্তি বা বিবরণ দেয়ার তারিখ পর্যন্ত নাবালকের পক্ষ হতেযা তিনি পেয়েছেন এবং ঐ তারিখে নাবালকের দেয় বা প্রাপ্ত ঋণের বিবরণ আদালতেদাখিল করবেন।
(গ) আদালতে যদি প্রয়োজন মনে করে সময় সময় যেভাবে নির্দেশ প্রদান করেন সেভাবেএবং সে সময়ে তার হিসাব এবং সে সময়ে তার হিসাব আদালতে প্রদর্শন করবেন।
(ঘ) আদালতে যদি প্রয়োজন মনে করেন আদালতের নির্দেশিত সময়ে ঐ সমস্ত হিসাবেরউদ্বৃত্ত বা উহার ঐ পর্যন্ত যাহা আদালত নির্দেশ দেন তা আদালতে প্রদান করতেহবে।
(ঙ) নাবালকের বা ঐ সমস্ত ব্যক্তি যারা তার পোষ্য তাদের খোরপোষ, শিক্ষা ওউত্কর্ষের জন্য এবং নাবালক বা তার পোষ্যরা পক্ষ থাকতে পারে এমন পবিত্রক্রিয়াকর্মের ধর্মানুষ্ঠানের জন্য আদালতে আবেদন করবেন এবং নাবালকেরসম্পত্তির আয়ের এরূপ অংশের জন্য যা আদালত সময় সময় নির্দেশ দিবেন এবং আদালতআদেশ দিলে ঐ সম্পত্তির সম্পূর্ণ বা কোন অংশ।

ধারা-৩৪কহিসাব নিরীক্ষার জন্য পারিশ্রমিক প্রদানের ক্ষমতা:
৩৪ ধারার (গ) দফা অনুসারে তলব করা হলে বা অন্যভাবে নাবালকের সম্পত্তিরঅভিভাবক হিসাবে প্রদর্শন করলে আদালত কোন ব্যক্তিকে উক্ত ব্যক্তিকে উক্তহিসাব নিরীক্ষা করার জন্য নিয়োগ করতে পারেন এবং সম্পত্তির আয় হতে উক্তকাজের জন্য পারিশ্রমিক দেয়ারও নির্দেশ দিতে পারেন।

ধারা-৩৫প্রশাসন-মুচলেকার ক্ষেত্রে অভিভাবকের বিরুদ্ধে মামলা:
যেখানে আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবক নাবালকের সম্পত্তি হতেযা পেরে পারে তার সঠিক হিসাব দেয়ার জন্য মুচলেকা দিয়েছে, দরখাস্ত দ্বারাআবেদন করলে এবং মুচলেকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয় নাই মর্মে সন্তুষ্ট হলেএবং জামানতের এমন শর্তের উপর অথবা গৃহীত যেকোন টাকা আদালতে প্রদান করারশর্তে অথবা আদালত অন্য যেভাবে উচিত মনে করেন অন্য যে কোন ব্যক্তির নিকটউক্ত মুচলেকা হস্তান্তর করতে পারে এবং ঐরূপ ব্যক্তি তার নিজ নামে মুচলেকারউপর মামলা দায়ের করতে পারবে যেমন আদালতের বিচারকের পরিবর্তে মূলতঃ মুচলেকাতাকে দেয়া হয়েছিল এবং নাবালক বা প্রতিপাল্যের অছি হিসাবে কোন লংঘনেরব্যাপারে আদায় করার অধিকারী হবে।

ধারা-৩৬প্রশাসন -মুচলেকা না নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকের বিরুদ্ধে মামলা:
আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবক উপরোল্লিখিত মতে মুচলেকা দেয়নাই আদালতের অনুমতি নিয়ে যে কোন ব্যক্তি পরবর্তি বন্ধু হিসেবে প্রতিপাল্যেরনাবালক থাকাকালীন সময়ে উপরোল্লিখিত শর্তে অভিভাবকের বিরুদ্ধে অথবা তারমৃত্যু হলে প্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিভাবক হিসেবে নাবালকের সম্পত্তি হতে যাপেয়েছে তার হিসেবে দেয়ার জন্য মামলা করতে পারে এবং নাবালকের অছি হিসেবেঅভিভাবক বা তার প্রতিনিধির নিকট দেয় টাকা মামলা মারফত আদায় করতে পারে।

(২) (১) উপ-ধারার ব্যবস্থাবলি এই আইনকর্তৃক সংশোধিত দেওয়ানী কার্যবিধির ৩২ আদেশ ১ বিধি এবং ৪ (২) তফশিল–১সাপেক্ষে অভিভাবকের বিরুদ্ধে মামলার ব্যাপারে প্রযোজ্য হবে।

ধারা-৩৭অছি হিসাবে অভিভাবকের সাধারণ দায়-দায়িত্ব:
উপরোল্লিখিত শেষ দুই ধারার কোন কিছু দ্বারাই কোন প্রতিপাল্য বা তারপ্রতিনিধিকে অভিভাবক বা তার প্রতিনিধির বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার হতে বঞ্চিতকরা হয়েছে এমন ব্যাখ্যা করা যাবে না। ঐগুলি স্পষ্টভাবে যে কোন ধারায় বলা হয়নাই বিধায় যে কোন স্বত্বভোগী বা তার অছি অথবা অছির প্রতিনিধির বিরুদ্ধেপ্রতিকার পাবে।

অভিভাবকত্বের অবসান

ধারা-৩৮। যুগ্ন অভিভাবকদের উত্তর জীবিতার অধিকার:
দুই বা ততোধিক যুগ্ন অভিভাবকদের মৃত্যু হলে আদালত কর্তৃক আরো অভিভাবক নিয়োগনা হওয়া পর্যন্ত উত্তরজীবী বা উত্তরজীবীগণ কর্তৃক অভিভাবকত্ব চালু থাকবে।

ধারা-৩৯অভিভাবকের অপসারণ:
কোন স্বার্থমুক্ত ব্যক্তির দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে বা নিজ প্রস্তাবেআদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবক অথবা উইল বা অন্য দলিল দ্বারানিযুক্ত অভিভাবককে আদালত নিম্নের যে কোন কারণে অপসারণ করতে পারেন। যথা-

(ক) তার অছির অপব্যবহারের জন্য;
(খ) তার অছির কর্তব্য পালনে অনবিচ্ছিন্ন ব্যর্থতার জন্য;
(গ) তার অছির কর্তব্য পালনে অযোগ্যতার জন্য;
(ঘ) তার প্রতিপাল্যের প্রতি দুর্ব্যবহার বা তার প্রতি উপযুক্ত যত্ন নিতে অবহেলা করার জন্য;
(ঙ) এই আইনের কোন বিধানের প্রতি বা কোন আদালতের কোন আদেশের প্রতি একগুয়েমিভাবে অবজ্ঞা করার জন্য;
(চ) কোন অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে বা আদালতের মতে চরিত্রগত ক্রটিবুঝায় যার দরুন প্রতিপাল্যের অভিভাবক হিসাবে থাকার অযোগ্য হয়ে পড়ে, তারজন্য;
(ছ) বিশ্বস্তভাবে তার কর্তব্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিরূপ স্বার্থ থাকার কারণে;
(জ) আদালতের স্থানীয় এলাকার মধ্যে বাস করা বন্ধ করার কারণে;
(ঞ) প্রতিপাল্য বা নাবালকের ব্যক্তিগত আইনের অধীনে অভিভাবকের অভিভাবকত্ববন্ধ হলে বা বন্ধ হতে বাধ্য হলে; তবে শর্ত থাকে যে, অভিভাবক উইল বা অন্যদলিল দ্বারা নিযুক্ত হলে এই আইনে ঘোষিত হোক বা না হোক তাহকে অপসারণ করাযাবে না।
(ক) (ছ) দফায় বর্ণিত কারণের জন্য, তবে যে ব্যক্তি তাকে নিয়োগ করেছেন তারমৃতু্যর পর বিরূপ স্বার্থ উদ্ভব না হলে অথবা যদি ইহা দেখানো হয় যে ঐব্যক্তি বিরূপ স্বার্থের অস্তিত্বের নিয়োগদান ও বহাল রেখেছে; অথবা
(খ) (জ) দফায় বর্ণিত কারণের জন্য যদি না এরূপ অভিভাবক এমন বাসস্থান নেয় যা আদালতের মতে অভিভাবক হিসাবে কর্তব্য পালনের জন্য অবাস্তব।

ধারা-৪০অভিভাবকের কার্যমুক্তি:
(১) আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত কোন অভিভাবক পদত্যাগ করতে ইচ্ছা করলে সে আদালতের নিকট কার্যমুক্তির জন্য আবেদনকরতে পারেন।
(২) আদালত আবেদনের সন্তোষজনক কারণ দেখালে তাকে কার্যমুক্ত করবেন এবংআবেদনকারী অভিভাবক যদি কালেক্টর হন এবং সরকার তার কার্যমুক্তির আবেদনঅনুমোদন করেন তবে আদালত তাকে কার্যমুক্ত করবেন।

ধারা-৪১অভিভাবকের কর্তৃত্বের বিরাম:
(১) ব্যক্তির বা শরীরের অভিভাবকের ক্ষমতার অবসান হয়-
(ক)তার মৃত্যু, অপসারণ বা কার্যমুক্তিতে;
(খ)কোর্ট অব ওয়ার্ডস প্রতিপাল্যের শরীরের তত্ত্বাবধান গ্রহণ করলে;
(গ)প্রতিপাল্যের নাবালকত্বের বিরতি হলে;
(ঘ)মহিলা প্রতিপাল্যের ক্ষেত্রে তার বিবাহ হলে এবং স্বামী তারব্যক্তির অভিভাবক হওয়ার অনুপযুক্ত না হলে অথবা অভিভাবক আদালত কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বা ঘোষিত হয়ে থাকলে প্রতিপাল্যের বিবাহের ক্ষেত্রে স্বামী আদালতেরমতে অনুপযুক্ত না হলে; অথবা
(ঙ)প্রতিপাল্যের ক্ষেত্রে যার পিতা তাহার শরীরের অভিভাবক হওয়ার অনুপযুক্তছিল, উক্ত পিতার (অনুপযুক্ততা) বন্ধ হলে অথবা যদি পিতা আদালত কর্তৃক ঐরূপঅনুপযুক্ত গণ্য হয়ে থাকে, আদালতের মতে তার (উক্ত অনুপযুক্ততার) অবসান হলে।
(২) সম্পত্তির অভিভাবকের ক্ষমতার অবসান হয়-
(ক)তার মৃত্যু, অপসারণ বা কার্য মুক্তিতে;
(খ)কোর্ট অব ওয়ার্ডস প্রতিপাল্যের শরীরের তত্ত্বাবধান গ্রহণ করলে;
(গ)প্রতিপাল্যের নাবালকত্বের বিরতি হলে;
(৩) যখন কোন কারণে অভিভাবকের ক্ষমতার অবসান হয় আদালত তাকে বা তার মৃত্যুহলে তার প্রতিনিধিকে তার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকা নাবালকের সম্পত্তিনির্দেশিত মতে সমর্পণ করার অথবা নাবালকের অতীত বা বর্তমান সম্পত্তির হিসাবনির্দেশিত মতে সমর্পণ করার জন্য তলব করতে পারেন।
(৪) আদালতের তলব মতে সে সম্পত্তি বা হিসাব সমর্পণ করলে পরবর্তীকালে উদঘাটিতহতে পারে এমন প্রতারণা ছাড়া আদালত তাকে দায়-দায়িত্ব হতে মুক্ত ঘোষণা করতেপারে।

ধারা-৪২মৃত, কার্যমুক্ত বা অপসারিত অভিভাবকের উত্তরাধিকারী নিয়োগ:
যখন আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত কোন অভিভাবক কার্যমুক্ত হয়, অথবাপ্রতিপাল্যের ব্যক্তিগত আইনের অধীনে কার্য করার অধিকার হতে বিরত হয় অথবাযখন উইল বা অন্য দলিল দ্বারা নিযুক্ত এমন অভিভাবক অপসারিত হয় বা মারা যায়; আদালত নিজ প্রস্তাবে অথবা ২য় অধ্যায়ের অধীনে দরখাস্তের উপর প্রতিপাল্য তখনোনাবালক থাকলে তার ব্যক্তি বা সম্পত্তি বা ক্ষেত্রমত উভয়ের জন্য অন্য একজনঅভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করতে পারেন।

অনুপূরক বিধানসমূহ

ধারা-৪৩অভিভাবকদের ব্যবহার বা আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আদেশ এবং ঐসব আদেশের বলবত্করণ:
(১) স্বার্থমুক্ত কোন ব্যক্তির দরখাস্তের উপর অথবা নিজ প্রস্তাবে আদালতকর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত কোন অভিভাবকের ব্যবহার বা আচরণ নিয়ন্ত্রণকরে আদালত আদেশ জারি করতে পারেন।
(২) যেখানে একজন প্রতিপাল্যের একাধিক অভিভাবক আছে এবং তারা তার মঙ্গলেরসঙ্গে যুক্ত কোন প্রশ্নের ব্যাপারে একমত হতে অক্ষম, সেক্ষেত্রে তাদের (অভিভাবক) যেকোন একজন নির্দেশের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারেন এবং তাদেরমতানৈক্যের ব্যাপারে আদালত যেমন উচিত মনে করেন সেভাবে আদেশ দিতে পারেন।
(৩) (১) উপধারা বা (২) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত আদেশ বিলম্বের দরুন নিষ্ফলপ্রতিপন্ন হবে এরূপ প্রতীয়মান হওয়ার ক্ষেত্র ছাড়া আদালত আদেশ প্রদানেরপূর্বে (১) উপ-ধারার অধীনে হলে অভিভাবকের উপর অথবা (২) উ-ধারার অধীনে হলেদরখাস্ত করে নাই এমন অভিভাবকের উপর আবেদন পত্রের নোটিশ বা আদালতের (আদেশপ্রদানের) ইচ্ছার নোটিশ জারি করার নির্দেশ দিবেন।
(৪) (১) বা (২) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত আদেশের অবাধ্যতার ক্ষেত্রে আদেশটিদেওয়ানী কার্যবিধির (১৯০৮ সনের ৫নং আইন) ৩৯ আদেশ ১ ও ২ বিধির অধীনেমঞ্জুরীকৃত নিষেধাজ্ঞার মত একইভাবে বলবত করতে হবে যেন (১) উপ-ধারার অধীনেআদেশের ক্ষেত্রে প্রতিপাল্য বাদী এবং অভিভাবক বিবাদী ছিল অথবা (২) উপ-ধারারঅধীনে আদেশের ক্ষেত্রে প্রতিপাল্য বাদী এবং অভিভাবক বিবাদী ছিল অথবা (২)উপ-ধারার অধীনে আদেশের ক্ষেত্রে আবেদনকারী অভিভাবক বাদী অন্যান্য অভিভাবকবিবাদী ছিল।

(৫) (২) উপ-ধারার অধীনের ঘটনা ছাড়া এই ধারার কোন কিছুই অভিভাবক হিসেবে কালেক্টরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

ধারা-৪৪এখতিয়ার হতে প্রতিপাল্যের অপসারণের জন্য শাস্তি:
যদি প্রতিপাল্যের ব্যাপারে আদালতের কর্তৃত্ব প্রয়োগ করা বা কার্যকর করা হতেবিরত রাখার উদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবক ২৬ধারার বিধান লংঘন করে কোন প্রতিপাল্যকে আদালতের এখতিয়ারের সীমা হতে সরিয়েনেয় তা হলে সে আদালতের আদেশে অনূর্ধ্ব এক হাজার টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাসপর্যন্ত দেওয়ানী কারাবাস ভোগ করতে বাধ্য থাকবে।

ধারা-৪৫অবাধ্যকতা শাস্তি:
(১) নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে যথা-
(ক) নাবালকের জিম্মাদার কোন ব্যক্তি তাকে উপস্থিত করার বা করানোর জন্য ১২ধারার (১) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত আদেশ পালনে যদি ব্যর্থ হয় অথবা ২৫ ধারার (১৬) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত আদেশের আনুগত্যে অভিভাবকের জিম্মায় নাবালককেফেরত আনতে বাধ্য করার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা না করে, অথবা

(খ) আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিতকোন অভিভাবক ৩৪ ধারার (খ) দফা দ্বারা বা অধীনে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে (ঐদফায়) প্রয়োজনীয় বিবরণ দাখিল করতে অথবা ঐ ধারার (গ) দফার অধীনে তলবকৃতহিসাব প্রদর্শন অথবা ঐ ধারার (ঘ) দফার অধীনে তলবকৃত ঐ সমস্ত হিসাব তার নিকটপাওনা উদ্বৃত্ত আদালতে প্রদান করতে ব্যর্থ হলে অথবা (গ) অভিভাবক হিসাবে আরনাই এমন কোন ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি কোন সম্পত্তি বা হিসাব অর্পণের ৪১ধারার (৩) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত তলব পালনে ব্যর্থ হলে অবস্থামত ঐ ব্যক্তিঅভিভাবক অথবা প্রতিনিধি আদালতের আদেশে একশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা প্রদানেএবং অবাধ্যতার পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে ত্রুটি চলতে থাকার সময় প্রথম দিনেরপরে প্রতিদিনের জন্য দশ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং সর্বসাকুল্যে পাঁচশতটাকার বেশি নয় এবং অবস্থামত নাবালককে উপস্থিত বা উপস্থিত করানোর জন্য অথবাতাকে ফেরতে বাধ্য করার জন্য অথবা বিবরণ দাখিল করার জন্য অথবা হিসাবপ্রদর্শনের জন্য অথবা উদ্বৃত্ত প্রদানের জন্য অথবা সম্পত্তি অথবা হিসাবঅর্পণের জন্য প্রতিশ্রুতি দেয়া পর্যন্ত দেওয়ানী কারাগারে আটক থাকতে বাধ্যথাকবে।
(২) যে ব্যক্তি (১৬ উপ-ধারার অধীনে) প্রতিশ্রুতি দিয়া আটক অবস্থা হতেমুক্তি পেয়ে আদালত কর্তৃক অনুমোদিত সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেব্যর্থ হয়েছে আদালত তাকে গ্রেফতার করতে এবং পুনঃ দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দকরতে পারেন।

ধারা-৪৬কালেক্টর এবং অধস্তন আদালত কর্তৃক প্রতিবেদন:
(১) আদালত কালেক্টর বা অধস্তন আদালতের নিকট হতে এই আইনের মামলায় উদ্ভুত কোনব্যাপারে প্রতিবেদন তলব করতে এবং উক্ত প্রতিবেদনকে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচনাকরতে পারেন।
(২) প্রতিবেদন প্রস্তুতির উদ্দেশ্যে ক্ষেত্রমত কালেক্টর বা অধস্তন আদালতেরবিচারক যেভাবে প্রয়োজন মনে করেন সেভাবে তদন্ত করবেন এবং তদন্তের উদ্দেশ্যেকোন সাক্ষীকে উপস্থিত হতে বা দলিল দাখিল করতে দেওয়ানী কার্যবিধি কর্তৃকআদালতের উপর বর্ণিত ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন।

ধারা-৪৭। আপিলযোগ্য আদেশ যেকোন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল চলবে:
(ক) ৭ ধারার অধীনে অভিভাবক নিয়োগ, ঘোষণা অথবা নিয়োগ বা ঘোষণা করতে অস্বীকার করলে, অথবা
(খ) ৯ ধারা (৩) উপ-ধারার অধীনে কোন দরখাস্ত ফেরত দিলে, অথবা
(গ) ২৫ ধারার অধীনে অভিভাবকের জিম্মায় প্রতিপাল্যকে ফেরত দেয়ার আদেশ করা বা আদেশ করতে অস্বীকৃতি জানালে, অথবা
(ঘ) ২৬ ধারার অধীনে প্রতিপাল্যকে আদালতের এলাকার সীমা হতে সরিয়ে নেয়ার অনুমতি প্রত্যাখ্যান করলে অথবা সে বিষয়ে শর্ত আরোপ করলে, অথবা
(ঙ) ২৮ বা ২৯ ধারার অধীনে কোন অভিভাবক ঐ ধারাতে উল্লিখিত কোন কাজ করার জন্য অনুমতি প্রত্যাখ্যান করলে, অথবা
(চ) ৩২ ধারার অধীনে কোন অভিভাবকের ক্ষমতা সংজ্ঞায়িত, সীমাবদ্ধ বা বৃদ্ধি করলে, অথবা
(ছ) ২ঌ ধারার অধীনে কোন অভিভাবককে অপসারণ করলে, অথবা
(জ) ৪০ ধারার অধীনে কোন অভিভাবককে কার্যমুক্ত করতে অস্বীকার করলে, অথবা
(ঝ) ৪৩ ধারার অধীনে কোন অভিভাবকের আচরণ বা কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করলে বাযুগ্ন অভিভাবকদের মধ্যে কোন পার্থক্যের বিষয় সিদ্ধান্ত দিলে, বা আদেশটিবলবত করলে, অথবা
(ঞ) ৪৪ ধারার ৩৪ ধারার অধীনে কোন জরিমানা আরোপ করলে।
এই শর্তে যে, যেখানে জেলা আদালতের অধস্তন কোন কর্মকর্তা প্রদত্ত আদেশ হতে আপীল শ্রেয়, সেখানে জেলা আদালতে আপীল চলবে।

ধারা-৪৮অন্যান্য আদেশের উপসংহার:
উপরোক্ত শেষ ধারার এবং দেওয়ানী কার্যবিধি ১১৫ ধারার (১৯০৮ সনের ৫নং আইন)বিধান ছাড়া এই আইনের প্রদত্ত যেকোন আদেশ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং কোনমামলা বা অন্যভাবে তা বিতর্কের যোগ্য হবে না।

ধারা-৪৯খরচ:
কোন অভিভাবক বা অন্য কোন ব্যক্তিকে দেওয়ানী কারাবাসে আটক রাখার খরচ সহ এইআইনের যেকোন মামলার খরচ অত্র আইনের অধীনে হাইকোর্ট ডিভিশনের প্রণীত কোনবিধি সাপেক্ষে যেই আদালতের মামলা সেই আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করবে।

ধারা-৫০হাইকোর্ট ডিভিশনের বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা:
(১) এই আইন দ্বারা স্পষ্ট বা অন্যভাবে প্রদত্ত বিধিপ্রণয়নের ক্ষমতা ছাড়াহাইকোর্ট ডিভিশন সময় সময় এই আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিধি প্রণয়ন করতেপারেন-
(ক) কালেক্টর বা অধস্তন আদালত হতে কোন বিষয়ে এবং কি সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন তলব করা উচিত, সে ব্যাপারে
(খ) অভিভাবকের জন্য কি ভাটা মঞ্জুর এবং তাদের নিকট হতে কি জামিন চাওয়া হবেএবং কোন ক্ষেত্রে ঐরূপ ভাতা মঞ্জুর করা উচিত হবে, সে ব্যাপারে;
(গ) কি কি অবস্থায় ৩৪ ধারার (ক), (খ) ও (ঘ) দফায় বর্ণিত বিষয়ে তলব দেয়া উচিত হবে, সে ব্যাপারে
(ঙ) অভিভাবক কর্তৃক প্রদত্ত বিবরণ এবং প্রদর্শিত হিসেবে সংরক্ষণের ব্যাপারে
(চ) স্বার্থযুক্ত ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক ঐ সব বিবরণ এবং হিসাব পরিদর্শনের ব্যাপারে;
(ছ) ৩৪-ক ধারার অধীনে হিসাব নিরীক্ষার জন্য যে শ্রেণীর লোক নিয়োগ করা উচিত এবং পারিশ্রমিকের কি ধাপ মঞ্জুর করা উচিত সে ব্যাপারে;
(জ) প্রতিপাল্যের টাকার জিম্মা টাকার জামিনের ব্যাপারে;
(ঝ) প্রতিপাল্যের টাকা বিনিয়োগ করার জামিনের ব্যাপারে;
(ঞ) প্রতিপাল্যের শিক্ষার ব্যাপারে যার জন্য কালেক্টর নয় এবং এমন অভিভাবক আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত হয়েছেন সে বিষয়ে;
(ট) সাধারণত এই আইনের উদ্দেশ্য সাধনে আদালত সমূহের নির্দেশনার জন্য।
(২) (১) উপ-ধারার (ক) এবং (জ) দফা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত না হলে কার্যকরীহবে না এবং এই ধারার কোন বিধিই সরকারি গেজেট এ প্রকাশিত হওয়ার পূর্বেকার্যকরী হবে না।

ধারা-৫১। বাতিল করা হয়েছে।
ধারা-৫২। বাতিল করা হয়েছে।
ধারা-৫৩। বাতিল করা হয়েছে।
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>
যৌতুক নিষিদ্ধকরণ আইন, ১৯৮০  [১৯৮০ সালের ৩৫ নং আইন]

যৌতুক প্রদান বা গ্রহণের জন্য দন্ড (Penalty for giving or taking dowry) :
এই আইনের কার্যকারিতা আরম্ভ হওয়ার পর যদি কোন ব্যক্তি যৌতুক প্রদান বাগ্রহণ করে অথবা প্রদান বা গ্রহণে প্ররোচনা দেয়, তাহা হইলে সে কারাদন্ডেপাঁচ বত্সর পর্যন্ত হইতে পারে এবং এক বত্সরের কম নহে কারাদন্ডে বা জরিমানায়কিংবা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হইবে।
৪। যৌতুক দাবি করিবার জন্য দন্ড (Penalty for giving or taking dowry) :
এই আইনের কার্যকারিতা আরম্ভ হইবার পর যদি কোন ব্যক্তি ক্ষেত্রমতে বর বাকনের পিতামাতা বা অভিভাবকের নিকট হইতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন যৌতুকদাবি করে, তাহা হইলে সে পাঁচ বত্সর মেয়াদ পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য এবং এক বত্সরমেয়াদের কম নহে, কারাদন্ডে বা জরিমানায় বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হইবে।
৫। যৌতুক প্রদান বা গ্রহণের চুক্তি বাতিল গণ্য হইবে (Agreement for giving or taking dowry to be void) : যৌতুক প্রদান বা গ্রহণের যেকোন চুক্তিপত্রবাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।
৬। স্ত্রী বা তাহার উত্তরাধিকারীগণের উপকারার্থে যৌতুক :
(এই ধারাটি ১ঌ৮৪ সনের ৬৪ নং অধ্যাদেশ দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে।)

অপরাধ আমলে লওয়া (Cognizance of offences) :
১৮ঌ৮ সনের ফৌজদারী কার্যবিধিতে (১৮ঌ৮ সনের ৫ নং আইন) যেকোন কিছু থাকা সত্ত্বেও-
(ক) প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের অধঃস্তন কোন আদালতই এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার করিবেন না ;
(খ) কোন আদালতই উক্ত অপরাধের তারিখ হইতে এক বত্সরের মধ্যে অভিযোগ আনয়ন করা ব্যতীত কোন অপরাধ আমলে আনিবেন না;
(গ) এই আইনের অধীন কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কোন ব্যক্তিকে এই আইন দ্বারাঅনুমোদিত যেকোন দন্ড প্রদান করা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের জন্যআইনসম্মত হইবে।
৮। অপরাধ আমল অযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপোসযোগ্য বলিয়া গণ্য হইবে (Offences to be non-cognizable, non-bailable and compoundable) :
এই আইনের অধীন প্রতিটি অপরাধ আমল অযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপোসযোগ্য বলিয়া গণ্য হইবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা (Power to make Rules) :
(১) সরকার অফিসিয়াল গেজেটে বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে এই আইনের উদ্দেশ্যাবলী সাধনে বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারেন।
(২) এই ধারার অধীনে প্রণীত প্রত্যেক বিধি ইহা প্রণীত হওয়ার পর যত্নতাড়াতাড়ি সম্ভব সংসদে উপস্থাপন করিতে হইবে এবং যে অধিবেশনে উহা উপস্থাপিতহইল সে অধিবেশন শেষ হওয়ার পূর্বেই যদি সংসদ উহাতে কোন পরিবর্তন আনিতে সম্মতহয় বা এই মর্মে সম্মত হয় যে বিধি প্রণয়ন করা হইবে না, তাহা হইলেবিধিতদনুযায়ী ক্ষেত্রমতে শুধুমাত্র সেই পরিবর্তিত আকারে কার্যকর হইবে অথবা আদৌকার্যকর হইবে না, এই সাপেক্ষে যে, উপরোক্ত যেকোন পরিবর্তন বা নাকচকরণ উক্তবিধির অধীনে ইতিপূর্বে করা কোন কিছুর সিদ্ধান্ত হানি করিবে না।

 

তথ্য সূত্র : জনগূরুত্বপূর্ণ আইন, লেখক- ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া